facebook

ভিটামিন এ এর অভাবঃ রোগ ও প্রভাবঃ


 

ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন এ এর অভাবঃ রোগ ও প্রভাবঃ

ভিটামিন এ মানব দেহের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। এটি দৃষ্টিশক্তি, ত্বক, এবং প্রতিরোধক ক্ষমতার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন এ এর অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এখানে কিছু সাধারণ রোগ ও অবস্থা আলোচনা করা হলো যা ভিটামিন এ এর অভাবে ঘটতে পারে:

১। রাতকানা (Night Blindness): রাতকানা হচ্ছে একটি সাধারণ সমস্যা যা ভিটামিন এ এর অভাবে ঘটে। এই অবস্থায় রাতে বা অল্প আলোতে দেখতে সমস্যা হয়। ভিটামিন এ এর অভাবে রেটিনা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, যার ফলে রাতের সময় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।

২। কর্নিয়াতে সমস্যা (Xerophthalmia): এটি একটি গুরুতর চোখের রোগ যেখানে চোখের কর্নিয়া শুকিয়ে যায় এবং এতে চোখে জ্বালা, শুষ্কতা, এবং দৃষ্টি কমে যেতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৩। ত্বকের সমস্যা: ভিটামিন এ এর অভাবে ত্বক শুষ্ক, খসখসে এবং রুক্ষ হতে পারে। এই সমস্যার ফলে ত্বক থেকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং ত্বকে ফাটা বা প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪। প্রতিরোধক ক্ষমতার অভাব: ভিটামিন এ শরীরের প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অভাবে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

৫। বৃক্ষদেহে সমস্যা: ভিটামিন এ এর অভাবে শরীরের বৃক্ষদেহ (growth) যথাযথভাবে উন্নত হতে পারে না। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অভাব বৃদ্ধি এবং উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ভিটামিন এ এর অভাব দূর করতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস পালন করা প্রয়োজন। গাজর, মিষ্টি আলু, পালং শাক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার দৈনিক খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। ভিটামিন এ এর প্রয়োজনীয় পরিমাণ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যবান খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


ড. মুহাম্মদ ইউনূস

 

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক গৌরবোজ্জ্বল নক্ষত্র

ড. মুহাম্মদ ইউনূস নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন কোন বিষয়ে?

ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সমাজসংস্কারক, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

গ্রামীণ ব্যাংক: ড. ইউনূসের যুগান্তকারী উদ্যোগ

ড. ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পেছনের মূল কারণ হল তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর মাধ্যমে তিনি যে ক্ষুদ্রঋণ ধারণা প্রচলিত করেছেন। ১৯৭৬ সালে, ড. ইউনূস প্রথমে চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে এই ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পটি শুরু করেন, যা পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।

ক্ষুদ্রঋণ কী?

ক্ষুদ্রঋণ, মূলত, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীকে ছোট পরিমাণের ঋণ প্রদান করার একটি ব্যবস্থা, যা সাধারণত প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকে। এই ঋণের মূল উদ্দেশ্য হল দরিদ্র মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তাদের ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করা।

ক্ষুদ্রঋণের প্রভাব ও সফলতা

ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা তাদের জীবনের মানোন্নয়ন করতে পেরেছে। ক্ষুদ্রঋণ তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে এবং সমাজে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমে এসেছে।

নোবেল পুরস্কার: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশাল স্বীকৃতি

ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণা শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর প্রভাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কাজের জন্যই ২০০৬ সালে নোবেল কমিটি ড. ইউনূসকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

তিনি ক্ষুদ্রঋণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এই পুরস্কার অর্জন করেন। ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সাহায্য করেছে।

ক্ষুদ্রঋণ একটি অর্থনৈতিক ধারণা, যেখানে দরিদ্র মানুষ, যাদের প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই, তাদেরকে ছোট ছোট ঋণ প্রদান করা হয়। এই ঋণ তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করতে এবং আয়ের একটি নির্দিষ্ট উৎস তৈরি করতে সাহায্য করে। ড. ইউনূসের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং সারা বিশ্বে দারিদ্র্য মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নোবেল কমিটি ড. ইউনূসকে এই পুরস্কার প্রদান করে তাঁর ক্ষুদ্রঋণ ধারণার জন্য, যা সমাজের নীচের স্তরের মানুষদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে। এটি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পায় এবং এই কারণে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তাঁর এই অবদান দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে একটি নতুন পথ দেখিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

কেন ড. ইউনূসকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়?

ড. ইউনূসকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয় তাঁর ক্ষুদ্রঋণ ধারণার জন্য, যা দারিদ্র্য বিমোচন এবং দরিদ্রদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। তাঁর এই উদ্যোগ দরিদ্রদের জীবনে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে, সেটিই তাঁকে নোবেল পুরস্কার অর্জনে সাহায্য করেছে।

 গ্রামীণ ব্যাংক ও নোবেল পুরস্কার: সম্পর্ক ও তাৎপর্য

গ্রামীণ ব্যাংককে নিয়ে নোবেল পুরস্কারের এই স্বীকৃতি কেবল ড. ইউনূসের জন্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। এই পুরস্কার বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংকের কাজকে আরও বেশি পরিচিতি এনে দেয় এবং অন্যান্য দেশেও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার প্রসারে সহায়ক হয়।

ড. ইউনূসের পুরস্কার ও সম্মাননা

নোবেল পুরস্কার ছাড়াও ড. ইউনূস অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার এবং সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন এবং তাঁর চিন্তাভাবনার জন্য তাঁকে একটি বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান

ড. ইউনূসের কাজ সমাজের উপর একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ক্ষুদ্রঋণ ধারণা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগ আজও অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশে ড. ইউনূসের ভূমিকা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ড. ইউনূসের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি যে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার প্রচলন করেছেন, তা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। তাঁর উদ্যোগ দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ড. ইউনূসের অবদান

ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ ধারণা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। তাঁর কাজের ফলে অন্যান্য দেশেও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে, যা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক হয়েছে।

ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত জীবন ও মূল্যবোধ

ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত সাধারণ। তিনি একটি পরিশ্রমী এবং আন্তরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর কাজের প্রতি নিবেদিত এবং সমাজের প্রতি তাঁর অবদান সবসময়ই প্রশংসিত হয়েছে।

ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ড. ইউনূস তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলোর মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন এবং সমাজের উন্নয়নে আরও বেশি কাজ করতে চান। তাঁর নতুন প্রকল্প এবং উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আরও ভালো কিছু করতে আগ্রহী।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি তাঁর কাজের জন্য একটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি। তাঁর ক্ষুদ্রঋণ ধারণা এবং গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে যে প্রভাব ফেলেছে, তা তাঁকে একজন মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর অবদান আমাদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা এবং সমাজের উন্নয়নে কাজ করতে একটি দৃষ্টান্ত।

--------------০--------------

 



 



আজ ২০ মে। "চুকনগর গণহত্যা দিবস"।

চুকনগর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্তর্গত। ডুমুরিয়া আটলিয়া ইউনিয়নে চুকনগর বাজার অবস্থিত। চুকনগর খুলনা শহর থেকে প্রায় ৩২ কি,মি পশ্চিমে ভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত এবং ভারতীয় সিমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যেসব গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি চুকনগর গনহত্যা। 

চুকনগর গণহত্যা একটি সামরিক গণহত্যা। যা ১৯৭১ সালের ২০ মে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার ডুমুরিয়ার ছোট্ট শহর চুকনগরে পাকিস্তানি বর্বর সেনারা নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অতর্কিত এ হামলা চালিয়ে মুক্তিকামী ১০-১২ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা যে নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারও এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আজকের চুকনগর।

ঐদিন যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ পুরুষ হলেও বহু নারী ও শিশকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।

চুকনগর ভারতের সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হবার পর বিভিন্ন স্হান থেকে লোকজন সীমানত অতিক্রমের জন্য চুকনগরে এসে জড়ো হয়।

পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বাঁচার তাগিদে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মোংলা, দাকোপ, বটিয়াগাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

বাংলাদেশের খুলনা ও বাগেরহাট থেকে ভদ্রা নদী পাড়ি দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চুকনগরে এসে জড়ো হয়। ভারতে যাবার জন্য তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে। 

১৯ মে রাতে সবাই চুকনগরে এসে পৌঁছান। পরদিন সকালে সাতক্ষীরা এবং কলারোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার জন্য চুকনগরে সমাবেত হন।

কিন্তু ২০ মে বেলা ১১ টার দিকে মিলিটারির দুটি দল একটি ট্রাক ও একটি জিপ গাড়িতে এসে চুকনগর বাজারের উত্তর প্রান্তে "ঝাউতলা" তৎকালীন পাতখোলা নামক একটি স্থানে এসে থামে। তাদের সঙ্গে ছিলো হালকা মেশিনগান ও সেমি অটেমেটিক রাইফেল। পাতখোলা বিল থেকে তারা গুলি চালনা শুরু করে এবং পরবর্তীতে চুকনগর বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে।

হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচার আশায় অনেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ে ডুবে মারা যায়। লাশের গন্ধে ভারি হয়ে যায় চুকনগর ও এর আশেপাশের বাতাস।

মাঠে, ক্ষেতে, খালে-বিলে পড়ে থাকে লাশ আর লাশ।

মৃতদেহগুলো পাক বাহিনী নদীতে নিক্ষেপ করে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন অবশিষ্ট মরদেহগুলোর অধিকাংশ নদীর পানিতে ফেলে দিতে বাধ্য হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার বা তারও বেশি।

হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে চুকনগরে একটি স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হয়েছে যা "চুকনগর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ" নামে পরিচিত।

তথ্য: সংগৃহীত

What is zip current zone?

 






What is zip current zone?


👉 It's not feasible to provide an exhaustive list of all rip current zones in the world, as they can occur in various coastal areas, and new ones can form due to changing conditions. Rip currents are influenced by factors like coastal geography, weather, and tides.

👉 Rather than having specific names, rip current zones are generally identified based on local geography, beaches, or landmarks. Local authorities, lifeguards, and beach signage often provide information about potential rip current hazards in specific areas.

👉 If you are planning to visit a beach, it's crucial to check local information, follow posted signs and warnings, and be aware of the conditions that might contribute to rip currents. Always prioritize safety and adhere to guidance from lifeguards and beach authorities.

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১

 



   ** এই নতুন শিক্ষাক্রমের শ্লোগানঃ

  " শিখন হবে অভিজ্ঞতায়
      মূল্যায়ন হবে যোগ্যতায়।"

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১

নতুন কারিকুলাম বিস্তরণ বিষয়ক সাত দিনের উপজেলা পর্যায়ে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির  ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলোঃ 

জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারনে পরিবর্তনশীল আমাদের এই বিশ্বে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে জীবন ও জীবিকা। 

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ আমাদের কর্মসংস্থান এবং জীবনযাপন প্রনালীতে পরিবর্তন নিয়ে আসছে।

পৃথিবী জুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও এখনও রয়ে গেছে ক্ষুধা,  দারিদ্র্য, অশিক্ষার মতো মৌলিক সমস্যাবলী।

যে কারনে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, অভিবাসন এবং জাতিগত সহিংসতার মতো সমস্যা আজ অনেক বেশি প্রকট।

আর এসব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তার  টেকসই ও কার্যকর সমাধান এবং আমাদের জনমিতিক সুফলকে সম্পদে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য প্র্যোজন জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দূরদর্শী, সংবেদনশীল, অভিযোজনে সক্ষম, মানবিক এবং যোগ্য দেশপ্রমিক বিশ্ব-নাগরিক।

বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদাররন করছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পনের লক্ষ্যমাত্রা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। 

আর এরকম একটি প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শিক্ষার শুধুমাত্র পরিবর্তন নয় প্রয়োজন শিক্ষার রুপান্তর।

এতদুদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উওর বিভিন্ন গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলন পরিচালনা করে। আর এসব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তার  টেকসই ও কার্যকর সমাধান এবং আমাদের জনমিতিক সুফলকে সম্পদে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য প্র্যোজন জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দূরদর্শী, সংবেদনশীল, অভিযোজনে সক্ষম, মানবিক এবং যোগ্য দেশপ্রমিক বিশ্ব-নাগরিক।

বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পন করছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পনের লক্ষ্যমাত্রা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। 

আর এরকম একটি প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শিক্ষার শুধুমাত্র পরিবর্তন নয় প্রয়োজন শিক্ষার রুপান্তর।

এতদুদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উওর বিভিন্ন গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলন পরিচালনা করে। গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলনে প্রাত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দেশের বরেন্য শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, স্ত্রভিত্তিক শিক্ষকদের সমন্ব্যে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য একটি জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ প্রণয়ন করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি সমূহের যৌথ সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ অনুমোদিত হয়।  

জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়নের ভিত্তিঃ

নতুন শিক্ষাক্রম উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাচঁটি ভিত্তিকে বিবেচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলোঃ

১। দার্শনিক ভিত্তি

২। মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি

৩। ঐতিহাসিক ভিত্তি

৪। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার এবং

৫। প্রমাণনির্ভর ভিত্তি।



শিক্ষাক্রমের রূপকল্পঃ
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক, উৎপাদনমুখী, অভিযোজনে সক্ষম সুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষাক্রমের অভিলক্ষ্যঃ

শিক্ষাক্রমের রূপকল্প অর্জনে প্রয়োজন সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় কিছু কৌশলগত বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন। এই রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫টি অভিলক্ষ্য ধরা হয়েছে। 
১। সকল শিক্ষার্থীর অন্ত্ররনিহিত সম্ভাবনা বিকাশে কার্যকর ও নমনীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন।
২। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীর বিকাশ ও উৎকর্ষের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
৩। প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরেও বহুমাত্রিক শিখনের সুযোগ সৃষ্টি ও স্বীকৃতি প্রদান।
৪। সংবেদনশীল, জবাবদিহিমূলক একীভূত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
৫। শিক্ষা ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল, স্ব-প্রনোদিত, দক্ষ ও পেশাদার জনশক্তি নিয়োগ।

শিক্ষাক্রমের অ্যাপ্রোচঃ

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এরই আলোকে কী কী যোগ্যতা অর্জন করলে শিক্ষার্থীরা এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠবে সেগুলোকে বিবেচনায় রেখে প্রাক-প্রাথমিক হতে নাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম উন্নয়নের  উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। 
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের যথাযথ উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষার একটি পরিপূর্ণ ধারণায়ন তৈরি করা জরুরি। 

যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারনাকে নিন্মোক্তভাবে দেখা হয়েছেঃ

১। শিখন পরিবেশ
২। শিখন সহায়তা
৩। শিখন অংশগ্রহণ 
৪। শিখন অগ্রগতি 
৫। শিখন মূল্যায়ন
৬। শিখন সমতা
৭। শিখন প্রত্যাশা

যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়-
* প্রত্যাশিত যোগ্যতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় শিখন পরিবেশ  ও সহায়তা পায় এবং অর্জিত যোগ্যতাসমূহ বাস্তব সমস্যা সমাধানে কাজে লাগানোর সুযোগ পায়।

* নিরাপদ ও নিজস্ব শিখন পরিবেশে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ চেষ্টার সুযোগ পায়।

* এখানে সকলের সংস্কৃতি ও মতামতের মূল্য দেয়ার ফলে শিক্ষার্থীর শিখনে দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

* এখানে সে এমন যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ ও সহায়তা পায় যা তাকে স্বাধীনভাবে শিখনে উদ্বুদ্ধ করে। 

* এখানে সমন্বিতভাবে যোগ্যতাসমূহের পারদর্শিতা অর্জনের সুযোগ পায়।

* শিক্ষার্থী তার প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো সময়ে শেখার সুযোগ পায়, পারদর্শিতা প্রদর্শন করতে পারে এবং নিজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে পারে।

* শিক্ষার্থী তার অগ্রগতি নিয়ে সময়মতো নির্দেশনা, সহায়তা ও ফলাবর্তন পায়।

* শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে মনোসামাজিক সহায়তা পায় যা তাকে শেকার ব্যক্তিগত পথ তৈরিতে সহায়তা করে।

* শিক্ষার্থীর শিখনের মূলয়ায়ন হয় শিখন যোগ্যতা ও পারদর্শিতার উপর ভিত্তি করে এবং এর উদ্দেশ্য হলো শিখন যোগ্যতা অর্জন করতে শিক্ষার্থীকে কোথায় কীভাবে কাজ করতে হবে তা জানার জন্য।

* শিক্ষার্থী  পারদর্শিতার প্রমাণ দিয়ে পরবর্তী ধাপের শিখনে অগ্রসর হতে পারে।

যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষার সফল বাস্তবায়নের অনুঘটকসমূহঃ

* শিক্ষাব্যবস্থা, কাঠামো, শিক্ষাক্রম,  শিখন-শেখানো কৌশল ও মূল্যায়ন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত তাই সমন্বিত পরিবর্তন ও বাস্তবায়ন করা যেনো কাঙ্খিত ফল  পাওয়া যায়।

* সমতা বজায় রেখে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন যেনো শিখন অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার মধ্য দিয়ে সকল শিক্ষার্থী পূর্ণ অংশগ্রহণের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরের পরিবেশে শিখতে পারে।

* শিক্ষার সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা অনুযায়ী যেনো সকল শিক্ষার্থী শিখতে পারে তা নিশ্চিত করা এবং বাঁধাপ্রাপ্ত হলেও আবার নিজের মতো করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শিখন-যোগ্যতা অর্জন করতে পারে এরূপ ব্যবস্থা রাখা। 

* শিখন-চাহিদা অনুযায়ী  উদ্ভাবনী  ও কার্যকরী শিখন-পরিবেশ তৈরি করা যেনো শিক্ষার্থীরা নিজেদের  মতো বিভিন্ন উপায়, প্রক্রিয়া  ও  সময় বয়বহার করে শিখতে পারে।

* শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিখন-যোগ্যতা যেনো বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের সুযোগ পায় তার বয়বস্থা রাখা। 

* শিখন যেকোনো সময়ে যেকোনো স্থানে অর্জিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা।

* শিখন সহযোগিতামূলক এবং সামাজিকভাবে গ্রথিত করা যেনো তা অনেক বেশি গভীর হয়।

* শিক্ষা থেকে প্রত্যাশা স্বচ্ছ,  সুনির্দিষ্ট,  পরিমাপযোগ্য করা যেনো উন্নত-শিখন৷ সংস্কৃতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

নতুন শিক্ষাক্রমে বিবেচ্য বিষয়সমূহঃ

১। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও আনন্দময় পড়াশোনার পরিবেশ সৃষ্টি
২। বিষয় এবং পাঠ্যপুস্তকের বোঝা ও চাপ কমিয়ে দক্ষতা ও যোগ্যতায় গুরুত্ব আরোপ
৩। গভীর (Deep learning) ও তার প্রয়োগে গুরুত্ব প্রদান
৪। মুখস্থ নির্ভরতার পরিবর্তে অভিজ্ঞতা ও  কার্যক্রমভিত্তিক শিখনে অগ্রাধিকার প্রদান
৫। খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিখনের উপর গুরুত্ব প্রদান
৬। নির্দিষ্ট দিনের শিখনকাজ যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শেষ হয় সে ধরনের শিখন কার্যক্রম পরিচালনা এবং  আনন্দময় কাজে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বাড়ির কাজের চা কমানো
৭। নির্দিষ্ট সময়ে অর্জিত পারদর্শিতার মূল্যায়ন ও সনদ প্রাপ্তির প্রতি গুরুত্ব আরোপ
৮। জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পর্কিত শিক্ষা

পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটঃ

1. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে জীবন-জীবিকার দ্রুত পরিবর্তন। যেখানে প্রচলিত পেশার তিনভাগের দুইভাগ ২০৩০ সালের মধ্যে অবলুপ্ত হয়ে যাবে এবং ৬৫% শিক্ষার্থী যারা এখন প্রাথমিক শিক্ষায় আছে তারা কর্মজগতে প্রবেশ করে যে কাজ করবে তা এখনো অজানা।
2. কোভিডের মতো মহামারী, স্থানীয় ও বৈশ্বিক অভিবাসন, দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, জীবিকার পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের পাশাপাশি মানুষের জীবনধারা ও মনোসামাজিক জগতে দ্রুত পরিবর্তন।
4. এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
5. স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন।
6. প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রমের নিরবচ্ছিন্ন সামঞ্জস্য বিধান।

শিক্ষায় পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটের প্রভাব:

১। ৫১টি দেশ ইতোমধ্যেই এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে শিক্ষাক্রমকে পরিমার্জন করে রূপান্তরযোগ্য দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করছে।
২। দক্ষিণ এশিয়াতে শ্রীলংকা, ভুটান এবং সম্প্রতি ভারত তাদের শিক্ষানীতিতে একই ধারায় পরিবর্তন করেছে।
৩। এনসিটিবি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা, কর্মশালা, অংশীজনের মতামত ও উন্মুক্ত মতবিনিময়ের ফলাফলেও একই ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ পাওয়া গেছে। 

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা - ২০২১ উন্নয়ন প্রক্রিয়াঃ

ছক

গবেষণার মাধ্যমে প্রচলিত শিক্ষাক্রম এর পরিস্থিতি বিশ্লেষণ কার্যকারিতা যাচাই এবং চাহিদা নিরূপন
(২০১৭-২০১৯)

থিমেটিক কর্মশালা ও সভার মাধ্যমে জাতীয় সমন্বিত স্কিল ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়ন (২০১৮-২০১৯)

প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম রূপরেখার ধারণা উন্নয়ন (২০১৯)

শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটি (CDRCC) গঠন (২০২০)

                                     (CDRCC)- কে সহায়তা করার জন্য কার্যসম্পাদন কমিটি গঠন 
      কার্যসম্পাদন কমিটি সহায়তায় সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষাক্রম রূপরেখার খসড়া প্রণয়ন (২০২০)

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বোর্ডের সাথে মতবিনিময় (২০২০)
খসড়া রূপরেখার উপর ৮০০ জনের অধক অংশীজনের মতামত গ্রহণ
অংশীজনের মতামত বিশ্লেষণ এবং তদানুযায়ী খসড়া হালনাগাদকরণ
শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটি কর্তৃক হালনাগাদকৃত খসড়া অনুমোদন
বিভিন্ন পর্যায়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরম্নত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের সাথে একাধিক সভায় খসড়া সম্পর্কে মতামত গ্রহণ
সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণের উদ্দেশ্যে ওয়েবসাইটে উন্মুক্তকরণ
প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত খসড়া উন্নয়ন
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক চূড়ান্ত খসড়া NCCC-তে প্ররণের জন্য অনুমোদন প্রদান
মন্ত্রণালয় কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার জন্য প্রেরণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক নীতিগত অনুমোদন
পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের জন্য উপদেষ্টা কমিটিতে প্রেরণএবং কমিটির মতামতের প্রেক্ষিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ
  NCCC কর্তৃক  চূড়ান্ত অনুমোদন


জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১
প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি 

রূপকল্প 
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত দেশপ্রেমিক, উৎপাদনমুখী, অভিযোজনে সক্ষম সুখী ও বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলা।

শিক্ষাক্রমে যোগ্যতার চারটি উপাদান ধরা হয়েছে।
যোগ্যতাঃ 
১। জ্ঞান 
২। দক্ষতা
৩। মূল্যবোধ
৪। দৃষ্টিভঙ্গি   




যোগ্যতাঃ 
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে অভিযোজনের জন্য জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে অর্জিত সক্ষমতা। 

যোগ্যতা নির্ধারণের প্রেরণা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা

জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি হলোঃ

মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত চেতনাঃ

চেতনা হলো আবেগিক ও সামাজিক বুদ্ধিমত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট, সময় ও পরিস্থিতিতে ব্যক্তিক মূল্যবোধ, আবেগ, দৃষ্টিভঙ্গি, প্রবনতা, গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য প্রভৃতির সমন্বয়ে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সে অনুযায়ী আচরণ করতে প্রেরণা যোগায়। সেই আলোকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শিক্ষাক্রম রূপরেখার সকল ধারণা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূলভিত্তি হলো মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত চেতনা ও স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি। 

* মানবিক মর্যাদা
* সামাজিক ন্যায়বিচার
* সাম্য

স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি

* জাতীয়তাবাদ
* সমাজতন্ত্র
* গণতন্ত্র ও
* ধর্মনিরপেক্ষতা

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিতে অনুপ্রাণিত উদ্যোগী ও উৎপাদনক্ষম জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করা প্রয়োজন। একইসাথে আত্মপরিচয় বহাল রেখে অভিযোজনে সক্ষম বিশ্বনাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করার জন্যও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষাক্রম রূপরেখায় যোগ্যতার বিভিন্ন উপাদানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

জ্ঞান

* বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান
* আন্তঃ বিষয়ক জ্ঞান
* বিষয়ভিত্তিক বিশেষ জ্ঞান
* পদ্ধতিগত জ্ঞান

দক্ষতা

১। শিখতে শেখার দক্ষতা
    * সূক্ষ্মচিন্তন
    * সৃজনশীল চিন্তন
    * সমস্যা সমাধান
২। ব্যক্তিগত ক্ষমতায়নের দক্ষতা
    * স্ব-ব্যবস্থাপনা
    * সিদ্ধান্ত গ্রহণ 
    * যোগাযোগ 
৩। ব্যবহারিক সামাজিক দক্ষতা
    * জীবন ও জীবিকার দক্ষতা
    * সহযোগিতা
    * বিশ্ব নাগরিকত্ব
৪। মৌলিক দক্ষতা
    * মৌলিক সাক্ষরতা
    * ডিজিটাল সাক্ষরতা

 দৃষ্টিভঙ্গি
    * নিজ সম্পর্কে ধারণা
    * ইতিবাচক সামাজিক রীতি সম্পর্কিত বিশ্বাস
    * আত্মবিশ্বাস

মূল্যবোধ
    * দেশপ্রেম
    * সম্প্রীতি
    * পরমতসহিষ্ণুতা
    * শ্রদ্ধা
    * সংহতি
    * শুদ্ধাচার
    * বৈচিত্রের প্রতি সহমর্মিতা  

জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ যোগ্যতার এই চারটি উপাদানের আলোকে ১০টি মূল যোগ্যতা ধরা হয়েছে।

১০টি মূল যোগ্যতা (Core Competency)

১। অন্যের মতামত ও অবস্থানকে সম্মান ও অনুধাবন করে, প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজের ভাব, মতামত যথাযথ মাধ্যমে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করতে পারা।

২। যেকোনো ইস্যুতে সূক্ষ্ম চিন্তার মাধ্যমে সামগ্রিক বিষয়সমূহ বিবেচনা করে সকলের জন্য যৌক্তিক ও সর্বোচ্চ কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিতে পারা।

৩। ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করে নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক হয়ে নিজ দেশের প্রতি ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততা প্রদর্শনপূর্বক বিশ্ব নাগরিকের যোগ্যতা অর্জন করা।

৪। সম্যাসার প্রক্ষেপণ, দ্রুত অনুধাবন, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ তাৎপর্য বিবেচনা করে সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যৌক্তিক ও সর্বোচ্চ কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিতে ও সমাধান করতে পারা।

৫। পারস্পারিক সহযোগিতা, সম্মান ও সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারা।

৬। নতুন দৃষ্টিকোণ, ধারণা, দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের মাধ্যমে নতুনপথ, কৌশল ও সম্ভাবনা সৃষ্টি করে শৈল্পিকভাবে তা উপস্থাপন এবং জাতীয় ও বিশ্বকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারা।

৭। নিজের শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়ে নিজ অবস্থান ও ভূমিকা জেনে ঝুঁকিহীন নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, বৈশ্বিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ তৈরি করতে ও বজায় রাখতে পারা।

৮। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে ঝুঁকি মোকাবেলা এবং মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে নিরাপদ ও সুরক্ষিত জীবন ও জীবিকার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারা।

৯। পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে দৈনন্দিন উদ্ভুত সমস্যা গাণিতিক, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা ব্যবহার করে সমাধান করতে পারা।

১০। ধর্মীয় অনুশাসন, সততা ও নৈতিক গুণাবলি অর্জন এবং শুদ্ধাচার অনুশীলনের মাধ্যমে প্রকৃতি ও মানব-কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারা। 

স্তরভিত্তিক নির্বাচিত বিষয়সমূহ:



দশম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বিভাগ ( মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা) থাকবে না।

   নবম ও দশম শ্রেণিতে জীবন  জীবিকা বিষয়ে বাধ্যতামূলকভাবে প্রত্যেক শিক্ষার্থী  কৃষি,  সেবা বা শিল্প খাতের একটি অকুপেশনে দক্ষতা অর্জন করবে এবং দশম  শ্রেণি শেষে যেকোনো একটি অকুপেশনে কাজ করার মতো পেশাদারি দক্ষতা  অর্জন করবে।

** নতুন কারিকুলামের অভিলক্ষ্যকে সামনে রেখে মূল যোগ্যতা ধরা হয়েছে ১০টি। 

[** সকল বিষয়ের যোগ্যতা মোট ১২১টি]

** এই ১০টি যোগ্যতা থেকে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে ধরা হয়েছে ৮টি একক যোগ্যতা।

** ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের ৮টি একক যোগ্যতা অর্জিত হবে ৪টি ডাইমেনশনের মাধ্যমে।

বিষয় : ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান (History and Social Sciences)

বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার বিবরণী

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্বে নিজের অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়, প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ও কাঠামো পর্যালোচনা করে পরিবর্তনশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করে একটি উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ ও বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বনাগরিক হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারা ।

বিষয়ের ধারণায়ন

ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একবিংশ শতাব্দীর একজন বিশ্বনাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক যোগ্যতা সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রকৃতিতে ও সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা পরিবর্তনের কার্যকারণ ও প্রভাব অনুসন্ধান করতে পারবে। যৌক্তিক অনুসন্ধান পদ্ধতির প্রাথমিক ধারণা কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামোর আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ে অনুসন্ধানের যোগ্যতা অর্জন করবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জেনে সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের মূলনীতির আলোকে সামাজিক ন্যায়বিচার নীতি ধারণ করে সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারবে। ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়টি ক্রস-কাটিং ইস্যু হিসেবে রূপরেখায় নির্ধারিত দশটি মূল শিখনক্ষেত্রের সবগুলোরই নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনে ভূমিকা রাখলেও, এতে মূলত সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু এবং জীবন ও জীবিকা শিখন-ক্ষেত্রগুলো অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও এসকল শিখন-ক্ষেত্রের যোগ্যতাসমূহ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

সামাজিক বিজ্ঞানের বৃহত্তর পরিসরে যে সকল বিষয় যেমন- ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, আইন ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়, সেগুলোর মূল বিষয়বস্তুসমূহ বিশ্লেষণ করে আত্মপরিচয়, প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামো, পরিবর্তনশীলতায় ভূমিকা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা – এই চারটি মূল ডাইমেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই চারটি ডাইমেনশনকে ভিত্তি করেই বিষয়ের ধারণায়ন করা হয়েছে।


ধারণায়ন অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী সামাজিক বিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রকৃতি ও সমাজের বিভিন্ন দৃশ্যমান ও বিমূর্ত কাঠামো এবং এসব কাঠামোর কাজ ও মিথস্ক্রিয়া বিষয়ে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামোর মিথষ্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃ তিক, ভৌগলিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সে তার আত্মপরিচয় অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি সে অনুধাবন করবে যে চারপাশের সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামো এবং তাদের ভূমিকা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তনশীলতার ফলে নিয়তই কিছু সম্ভাবনা এবং ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রকৃতি ও সমাজকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে । একজন শিক্ষার্থী এসব ঝুঁকি মোকাবিলা করে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রকৃতি ও সমাজের পরিবর্তনশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা পালনের যোগ্যতা অর্জন করবে। মানবসভ্যতার বিকাশে সম্পদ একটি অপরিহার্য উপাদান। কাজেই টেকসই উন্নয়নের জন্য পৃথিবীর সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা জরুরি। তাই সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আলোচ্য চারটি ডাইমেনশনের আলোকে একজন শিক্ষার্থী যে যোগ্যতাসমূহ অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে তা সভ্যতা ও সংস্কৃতি, সামাজিক সম্পর্ক, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য এসকল ক্ষেত্রে চর্চা করার মাধ্যমে সহযোগিতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, দায়িত্বশীলতা, সংবেদনশীলতা প্রভৃতি মূল্যবোধ ও নৈতিকতা অর্জন করতে পারবে । আর এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে যে যোগ্যতা অর্জিত হবে তার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী হয়ে উঠবে জাতীয়তাবোধসম্পন্ন বিশ্বনাগরিক।


ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের যোগ্যতাসমূহ নির্ধারণ করার জন্য যে চারটি ডাইমেনশন বিবেচনায় নেয়া

হয়েছে তাদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে উল্লেখ করা হয়েছে :

** ৪টি ডাইমেনশন:

       ১। আত্মপরিচয়ঃ 

ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নিজের পরিচয় নির্মাণ করা ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের একটি মূল প্রতিপাদ্য হওয়ায় সকল বিষয়কে সমন্বিতভাবে আয়ত্ত করার জন্য একে একটি ডাইমেনশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

      ২। প্রকৃতিক ও সামাজিক কাঠামোঃ 

প্রাকৃতিক সামাজিক বিজ্ঞানের সকল বিষয়েরই কেন্দ্রীয় একটি বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কাঠামোর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান করা । প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের যোগ্যতা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে তাই কাঠামোকে একটি ডাইমেনশন হিসেবে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রাকৃতিক কাঠামো বলতে সাধারণত প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান ও ব্যবস্থা যেমন : নদী, সাগর, মহাসাগর, পর্বতমালা, মহাদেশ প্রভৃতিকে বোঝানো হয়ে থাকে। অন্য দিকে, সামাজিক কাঠামো বলতে সাধারণত পরিবার, ধর্ম, রীতিনীতি, সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতিকে বোঝানো হয়

     ৩। পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকাঃ

প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামো পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ভিত্তিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল । এই পরিবর্তনশীলতার বস্তুনিষ্ঠ প্যাটার্ন অনুসন্ধান করা সামাজিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য বিষয়। যে কোন পরিবর্তনের ফলেই কিছু সম্ভাবনা ও ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিবেচনা করে যথাযথ ইতিবাচক ভূমিকা নির্ধারণের যোগ্যতা অর্জন সামাজিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এ বিবেচনায় পরিবর্তনে ইতিবাচক ভূমিকা নির্ধারণকে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের যোগ্যতা নির্ধারণের একটি ডাইমেনশন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

     ৪। সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণঃ 

উন্নয়নের জন্য সম্পদ একটি অপরিহার্য বিষয়। প্রকৃতির সম্পদ সীমিত। প্রকৃতিকে ব্যবহার করে সম্পদের উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ ও সংরক্ষণ অর্থাৎ সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণকে তাই ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানের একটি ডাইমেনশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

** ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের যে ৮টি একক যোগ্যতা আছে তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে ৪টি ডাইমেনশনের মাধ্যমে।
** ষষ্ঠ-দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের ৮ টি যোগ্যতা ও শিখন ক্রম নিন্মরূপঃ

৬ষ্ঠ শ্রেণি

৭ম শ্রেণি

৮ম শ্রেণি

৯ম শ্রেণি

১০ম শ্রেণি

৬. প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন পর্যালোচনা ও এদের আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করে কীভাবে বিভিন্ন সামাজিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কাঠামোগুলো গড়ে উঠে তা অনুসন্ধান করতে পারা এবং এর প্রেক্ষিতে কীভাবে সমাজে ব্যক্তির অবস্থান ও ভূমিকা নির্ধারিত হয় তা অনুসন্ধান করতে পারা; প্রচলিত লিখিত উৎসের বাইরেও বিভিন্ন উৎস অনুসন্ধান করে ইতিহাসের পটপরিবর্তন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অবদান উপলব্ধি করে শ্রদ্ধা ও মমতার সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারা।

৭. সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি, মূল্যবোধ এবং সমাজে মানুষের অবস্থান ও ভূমিকা যে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে পারে তা অনুসন্ধান করে এর পরিপ্রক্ষিতে মানুষের সাদৃশ্য ও ভিন্নতার কারণ উপলব্ধি করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সহাবস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা নির্ধারণ করা।

 

৮. সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি, মূল্যবোধ এবং সমাজে মানুষের অবস্থান ও ভূমিকা যে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে পারে তা অনুসন্ধান করে এর পরিপ্রক্ষিতে মানুষের সাদৃশ্য ও ভিন্নতার কারণ উপলব্ধি করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সহাবস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা নির্ধারণ করা।

 

৯. প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজের মানুষের আচরণিক প্যাটার্নের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় সংঘটিত পরিবর্তনের ফলে নিকট ভবিষ্যতে উদ্ভূত সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় জাতীয় পরিসরে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা নির্ধারণ করে তা পালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

 

১০. প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজেরমানুষের আচরণিক প্যাটার্নের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় সংঘটিত পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় বৈশ্বিক পরিসরে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা নির্ধারণ করে তা পালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

 

৬.১  বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের সাপেক্ষে সামাজিক কাঠামো ও এর উপাদানসমূহের পরিবর্তন অন্বেষণ করতে পারা

৭.১ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ যে ধ্রুব নয় বরং প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারা

৮.১  প্রকৃতি ও সমাজের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে তা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে অনুসন্ধান করতে পাৱা

৯.১  ১০.১  প্রকৃতি ও সমাজের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে এবং সেই অনুযায়ী কীভাবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় তা উপলব্ধি করা এবং তাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে যাচাই করা ও সে অনুযায়ী সংবেদনশীল আচরণ করতে পারা

৬.২   ভৌগোলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নিজের আত্মপরিচয় ধারণ করা ও সেই অনুযায়ী দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারা

৭.২ নিজের ও অন্য সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য ও ভিন্নতা উপলব্ধি করে সহযোগিতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারা 

৮.২  পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আত্মপরিচয় গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি মানুষের অনন্যতা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া বৈচিত্র্য অন্বেষণ করতে পারা

৯.২  ১০.২ বিভিন্ন ভৌগলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে মানুষের আত্মপরিচয় ও আচরণিক প্যাটার্ন কীভাবে গড়ে ওঠে তা অনুসন্ধান করতে পারা

 

৬.৩ প্রচলিত লিখিত উৎসের বাইরেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান থেকে তথ্য নিয়ে ইতিহাসের পটপরিবর্তনের স্বরূপ উপলব্ধি করতে পার

৭.৩  ঐতিহাসিক তথ্য যে উৎস এবং শ্রোতার উপর নির্ভর করে এবং তা যে ব্যক্তিনিরপেক্ষ নয় তা উপলব্ধি করতে পারা

৮.৩ একই ঐতিহাসিক তথ্য যে ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে অর্জিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান তৈরি করে তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারা

৯.৩ একাধিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক বয়ান দলিল ও প্রমাণাদির উপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করে নিজস্ব যৌক্তিক ভাষ্যে উপনীত হওয়া

 

১০.৩ বর্তমানের কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের ইতিহাস সৃষ্টি হয় তা উপলব্ধি করে দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে পারা

৬.৪ লিখিত উৎসের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান থেকে ঐতিহাসিক তথ্য অনুসন্ধান করে মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অবদান উপলব্ধি করতে পারা

৭.৪  মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে স্থানীয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারা

৮.৪ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি ও অঞ্চলের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করতে পারা 

৯.৪, ১০.৪ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে ব্যক্তিস্বার্থের উধের্ম্ম জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারা

৬.৫ সামাজিক কাঠামো কীভাবে বিভিন্ন সময় ও ভৌগলিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্নভাবে গড়ে ওঠে এবং কাজ করে তা অন্বেষণ করতে পারা

৭.৫, ৮.৫ প্রচলিত রীতিনীতি, মূল্যবোধ ইত্যাদি কীভাবে সামাজিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলে এবং একই সঙ্গে এই কাঠামো দ্বারা কীভাবে সেগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় তা অন্বেষণ করতে পারা

৯.৫, ১০.৫ নিজস্ব গণ্ডি থেকে শুরু করে বৃহৎ বৈশ্বিক পরিসরে সামাজিক কাঠামোকে ব্যক্তিনিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করতে পারা

৬.৬ সমাজে ব্যক্তির অবস্থান ও তার ভূমিকা বিদ্যমান সামাজিক এবং রাজনৈতিক কাঠামো দ্বারা কীভাবে নির্ধারিত হয় তা অনুসন্ধান করতে পারা

৭.৬ ,  ৮.৬  সময়ের সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ব্যক্তির অবস্থান ও ভূমিকার উপর কী রকম প্রভাব ফেলে তা অনুসন্ধান করতে পারা

 

৯.৬, ১০.৬ স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর যৌক্তিক বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত অবস্থান ও ভূমিকা নির্ধারণ করতে পারা

৬.৭ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন পর্যালোচনা করে এদের আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারা

৭.৭ স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজস্ব গণ্ডিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারা 

৮.৭  স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে কমিউনিটিকে উদ্বুদ্ধ করতে পাৱা

৯.৭, ১০.৭ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্যাটার্ন উদঘাটন করে এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাবনা ও ঝুঁকিসমূহ বিবেচনা করে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা পালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পারা

৬.৮ সময় ও অঞ্চলভেদে সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাঠামো কীভাবে গড়ে ওঠে তা অন্বেষণ করতে পারা

৭.৮ , ৮.৮ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সম্পদের উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ ও সংরক্ষণের চর্চা সামাজিক সমতার নীতির ভিত্তিতে পর্যালোচনা করতে পারা

৯.৮, ১০.৮ সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পদের উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ এবং সংরক্ষণের নীতি বিশ্লেষণ করে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা নির্ধারণ করতে পারা

 

** "আমরা মূল্যায়ন করি যোগ্যতার। অর্থাৎ সকল ধরনের শিখন মূল্যায়নের ভিত্তি হবে যোগ্যতা।"

** কোনো একটি শিখন অভিজ্ঞতার আলোকে একক যোগ্যতার ভিত্তিতে পারদর্শিতার সূচক অনুযায়ী শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা অর্জনের মাত্রা নিরূপন করা হয়।

শিক্ষাক্রমের মূলনীতিঃ

অভিলক্ষ্য সমূহকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০টি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূলনীতিগুলো শিক্ষাক্রম রূপরেখার রূপকল্প আরও উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য দিক নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে, সেগুলো নিন্মরূপঃ

১। মুক্তিযদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ
২। একীভূত ও অন্তর্ভূক্তিমূলক
৩। বৈষম্যহীন
৪। বহুমাত্রিক
৫। যোগ্যতাভিত্তক
৬। অভিজ্ঞতাভিত্তিক
৭। প্রাসঙ্গিক ও নমনীয়
৮। জীবন ও জীবিকা-সংশ্লিষ্ট
৯। অংশগ্রহণমূলক
১০। শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক ও আনন্দময়।

শিখন ক্ষেত্রঃ
শিক্ষাক্রমের দশটি মূল যোগ্যতা অর্জনে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের শিখনের দশটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেগুলো নিম্নরূপঃ 
১। ভাষা ও যোগাযোগ
২। গণিত ও যুক্তি
৩। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
৪। ডিজিটাল প্রযুক্তি
৫। পরিবেশ ও জলবায়ু
৬। সমাজ ও বিশ্বনাগরিকত্ব
৭। জীবন ও জীবিকা
৮। ধর্ম, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা
৯। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা
১০। শিল্প ও সংস্কৃতি

৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির নির্ধারিত বিষয়সমুহঃ

১। বাংলা
২। ইংরেজি
৩। গণিত
৪। বিজ্ঞান
৫। ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান
৬। ডিজিটাল প্রযুক্তি
৭। জীবন ও জীবকা
৮। স্বাস্থ্য সুরক্ষা
৯। ধর্ম শিক্ষা ও
১০। শিল্প ও সংস্কৃতি


** শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায় ও স্তরের উদ্দেশ্যকে একটি প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো-


          




** শিখন চক্রঃ



শিখন চক্র মূলত চারটি বিষয় নিয়ে গঠিত হয়েছে।


১। প্রেক্ষাপটনির্ভর অভিজ্ঞতা-পূর্বের জানা বিষয়- যেকোনো বিষয় সম্পর্কে পূর্বের জ্ঞান থাকাকে বোঝায় (জাতীয় শিক্ষাক্রম  ২০১২ সম্পর্কে পূর্ব জ্ঞান নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষণে আসা)

২। প্রতিফলনমূলক পর্যবেক্ষণ- খুঁজবে-বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ঐ বিষয় সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করা (জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয়, যেমনঃ শিখন-শেখনো সামগ্রী, শিখন-শেখনো কৌশল, মূল্যায়ন ইত্যাদি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা)

৩। বিমূর্ত ধারণায়ন-ধারণা লাভ করা-ঐ বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা অর্জন যেমনঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ এর শিখন-শেখনো সামগ্রী, শিখন-শেখনো কৌশল, মূল্যায়ন ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা (প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা অর্জন করা)

৪। সক্রিয় পরীক্ষণ-বাস্তবায়ন করবে- ঐ বিষয়টিকে যেমনঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ বাস্তবায়ন করাই হলো সক্রিয় পরীক্ষণ (প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করা)

যেমনঃ জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২ সম্পর্কে পূর্ব জ্ঞান নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষণে এসে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করে প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করি।

এখানে উল্লেখ্য যে, নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ এর শিখন চক্রটি এসেছে মূলত ডেভিড কব-এর শিখন শৈলী এবং অভিজ্ঞতামূলক শিখন চক্র থেকে। নিচে ডেভিড কব- এর শিখন চক্রটি আলোচনা করা হলোঃ

শিক্ষায় মানবতাবাদী এবং গঠনবাদী দৃষ্টিভঙ্গি , যা জোর দেয় স্বতঃস্ফূর্ত শিখনের উপর, এর মধ্যে রয়েছে Kolb's Experiential Learning Theory & Learning Styles.

ডেভিড কব প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জ্ঞান নির্মাণের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ধারণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিখন ঘটে আবিস্কার এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে।
 
ডেভিড কব শিখনকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে-  Learning is the process whereby knowledge is created through the transformation of experience (Kolb, 1984).

Kolb's Experiential Learning Theory-র দুটি অংশ রয়েছে। 
তার মধ্যে প্রথমটি হলো "শিখনের চারটি ধাপের চক্র" অনুসরণ করে। ডেভিড কব বিশ্বাস করেন যে, আদর্শগতভাবে শিক্ষার্থীরা এই চক্র সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে শিখনের দিকে অগ্রসর হয় এবং ফলস্বরূপ, তাদের অভিজ্ঞতাগুলো জ্ঞানে রূপান্তরিত হয়। 
ডেভিড কব-এর দ্বিতীয় অংশটি হলোঃ শিখন শৈলীর উপর বা জ্ঞানার্জনের বিভিন্ন জ্ঞানমূলক প্রক্রিয়াগুলিতে মনোনিবেশ করা। 
মূলত ডেভিড কব বিশ্বাস করেন যে, ব্যক্তিরা যদি তাদের অধিত জ্ঞানের সঠিক পরিস্থিতিতে প্রদর্শন করতে পারে তবেই তারা বিমূর্ত চিন্তনে সক্ষম হবে। শিখন চক্রের সমস্ত স্তরের সমাপ্তি অভিজ্ঞতার সাথে জ্ঞানের রূপান্তর ঘটায়। 
ডেভিড কব-এর পুরো তত্ত্বটি অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানে রূপান্তর করণের ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতার সাথে, শিক্ষার্থী তাদের বর্তমানকে বোঝার সাথে নতুন পর্যবেক্ষণকে সংহত করতে সক্ষম হয়। আদর্শগতভাবে, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি পর্যায়ে থেকে শিখনের সুযোগ থাকা উচিত। 
ডেভিড কব -এর তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দু হলো অভিজ্ঞতার ধারণা, কারণ তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া হিসাবে দেখেন যার মাধ্যমে কোনও কিছু পরিবর্তন করা বা রূপান্তর করা হয়ে থাকে। মুখস্থ করা বা শেখানোর ধারণার প্রত্যাহারের সাথে শিখনের কোন মূল্য যুক্ত করা হয়নি বলে শিক্ষা সমান হয়নি। 
ডেভিড কব -এর মডেল স্বীকৃতি দেয় যে শিখনকে সংজ্ঞায়িত করার জন্য অভিজ্ঞতাকে জ্ঞানের স্তরে রূপান্তর হওয়া আবশ্যক।
ডেভিড কব-এর শিখনচক্রের চারটি স্তর নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলোঃ
কব-এর শিখনচক্র পিঁয়াজের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেখানে বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীরা পরিবেশের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করে।

১।  Concrete Experience: প্রেক্ষাপটনির্ভর অভিজ্ঞতা (doing Or having an experience): ডেভিড কব- এর শিখন প্রক্রিয়ার চক্রটি একটি মূর্ত বা বাস্তব অভিজ্ঞতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এটি হলো সম্পূর্ণ নতুন একটি অভিজ্ঞতা বা ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরায় কল্পনা করার অভিজ্ঞতা। বাস্তব অভিজ্ঞতায়, প্রতিটি শিক্ষার্থী কোনও না কোনও ক্রিয়াকলাপ  বা কার্যক্রমে নিযুক্ত থাকে। ডেভিড কব বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষার মূল বিষয় হলো শিখন বিষয়ের সাথে একত্রীকরণ। শিক্ষার্থীদের পক্ষে কেবল পড়া বা একটি কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিখন সম্ভব নয়। নতুন জ্ঞান অর্জন করতে , শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সক্রিয়ভাবে সেই কাজে নিযুক্ত থাকতে হবে।

২।  Reflective Observation: প্রতিফলন মূলক পর্যবেক্ষণ (reviewing or reflecting on the experience-):পর্যালোচনা বা অভিজ্ঞতার প্রতিফলন: বাস্তব অভিজ্ঞতায় নিযুক্ত হওয়ার পরে, শিক্ষার্থী কাজের প্রতিফলের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়। শিখন চক্রের এই পর্যায়টিতে শিক্ষার্থী নানান প্রশ্নের উত্থাপন এবং অন্যের সাথে অভিজ্ঞতার আদান প্রদান করে থাকে। এই পর্যায়ে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শিক্ষানবিশ ও তাদের বোঝার এবং অভিজ্ঞতার মধ্যে যে কোনও ত্রুটিগুলো সনাক্ত করতে সহায়তা করে থাকে। শব্দভাণ্ডারের বিকাশ ঘটেছে এমন ঘটনাগুলির একটি দৃঢ় পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অনুমতি দেয়।

৩।  Abstract Conceptualization:বিমূর্ত  ধারণায়ন(concluding or learning from the experience-):অভিজ্ঞতা থেকে উপসংহার বা শিক্ষা- শিখন চক্রের পরবর্তী ধাপ হলো ঘটনাগুলিকে বোঝা বা ধারণা আয়ত্তকরণ। শিক্ষার্থীরা এই ধাপে তাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের প্রতিফলন করে, ধারণাগুলি ব্যবহার করে যা তারা পরিচিত বা সমবয়সীদের সাথে সম্ভাব্য তত্ত্বগুলি নিয়ে আলোচনা করে, অভিজ্ঞতাভিত্তিক সিদ্ধান্তগুলি অঙ্কনে চেষ্টা করে। যখন শিক্ষার্ত্থীরা ধারণাগুলি শ্রেণিবদ্ধ করতে শুরু করে এবং ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন শিক্ষার্থী প্রতিবিম্বিত পর্যবেক্ষণ থেকে বিমূর্ত ধারণাটির দিকে ধাবিত হয়। এর মধ্যে অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা করা এবং বর্তমান ধারণার সাথে তুলনা করার সাথে জড়িত। ধারণাগুলি নতুন হওয়ার দরকার নেই, শিক্ষার্থীরা নতুন তথ্য বিশ্লেষণ করতে এবং ইতিমধ্যে বিদ্যমান ধারণাগুলিতে তাদের সিদ্ধান্তগুলি সংশোধন করতে পারে।

৪।  Active Experimentation-সক্রিয় পরীক্ষণ  : (planning or trying out what was learned):  শিখন চক্রের এই পর্যায়টি হচ্ছে পরীক্ষার পর্যায়। এই পর্যায়ে শিক্ষার্থী তাদের আয়ত্ত্বকৃত অভিজ্ঞতাগুলিকে সিদ্ধান্তে প্রয়োগের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে, নতুন কার্যক্রমে অংশ নিতে ফিরে আসে। এই পর্যায়ে শিক্ষার্থী কার্য বিশ্লেষণ করতে এবং ভবিষ্যতে অর্জিত জ্ঞানের জন্য পরিকল্পনা করতে সক্ষম।

ডেভিড কব-এর এই শিখন চক্রের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি বিষয়ের উপর পূর্ব জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন বিষয় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে ঐ বিষয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রতিফলনমূলক পর্যবেক্ষণ করে ঐ বিষয় সম্পর্কে বিমূর্ত ধারণা লাভ করে সক্রিয় পরীক্ষণে উপনীত হয়।     

** শিখন-শেখানো কৌশলঃ

  ১। প্রেক্ষাপট ভিত্তিক ও অভিজ্ঞতা ভিত্তিক
  ২। হাতে কলমে শিখন, প্রকল্প এবং সমস্যা ভিত্তিক শিখন, সহযোগিতামূলক শিখন, অনুসন্ধানভিত্তিক শিখন, স্ব-প্রণোদিত শিখনের সংমিশ্রণ। 
  ৩। অনলাইন  ও মিশ্র শিখন।
  ৪। শিক্ষক সহায়তাকারী এবং শিক্ষার্থী সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।
  ৫। শিখন প্রক্রিয়ায় বিষয়সংশ্লিষ্ট কোনো বাস্তব জীবনধর্মী সমস্যা নির্ধারণ করে তা সমাধানের উপায় নির্ধারণ এবং তা প্রয়োগের অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিতকরণ।
  ৬। শিখন পরিবেশ সহায়তামূলক, একীভূত,  অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী।
  ৭। শিখন পরিবেশ শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক, গণতান্ত্রিক ও সহযোগিতামূলক।

** শিখন কৌশলঃ

     প্রকল্পভিত্তিক
     সমস্যা ও চ্যালেঞ্জভিত্তিক
     অনুসন্ধানমূলক
     সহযোগিতামূলক
     সংযোগমূলক
     প্রেক্ষাপটনির্ভর

** শিখন প্রক্রিয়াঃ

     অভিজ্ঞতা 
     পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়া 
     পর্যবেক্ষণ 
     হাতে কলমে কাজ
     দলীয় কাজ
     পঠন
     স্মৃতিতে ধারণ

যোগ্যতার উপাদানঃ

      জ্ঞান 
     দক্ষতা
    মূল্যবোধ
     দৃষ্টিভঙ্গি   

** শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণঃ

     জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২২ বিস্তরণ বাস্তবায়নের মূল বাহন হলো শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ যা শিখনকার্য পরিচালনার জন্য শিক্ষকের যেমন প্রয়োজন তেমনি এর যথাযথ ব্যবহার প্রয়োগের ফলে একজন শিক্ষার্থীর যেকেনো একটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষাক্রমে উল্লিখিত যোগ্যতাসমূহ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

এই শিখন-শেখানো সামগ্রী বিভিন্ন পর্যায় ও স্তরভিত্তিক- বিভিন্ন হবে। যেমন:

প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :

** মূল শিখন-শেখানো সামগ্রী হলো শিক্ষক সহায়িকা এছাড়া আরও ব্যবহার করো হবে
১। ওয়ার্কবুক
২। গল্প ও ছড়ার বই
৩। চার্ট
৪। কার্ড
৫। মডেল
৬। উন্নয়নসহ খেলনা ও বিভিন্ন উপকরণ 
৭। অডিও-ভিজ্যুয়াল

প্রাথমিক(১ম থেকে ৩য়) পর্যায়ে শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :

** মূল শিখন-শেখানো সামগ্রী হলো শিক্ষক সহায়িকা । 
বিভিন্ন খেলা, কাজ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা অনুযায়ী শিখন যোগ্যতাসমূহ অর্জন করার জন্য এছাড়া আরও উপকরণ প্রচলন করা হবে। 
১। ওয়ার্কবুক
২। পাঠ্যপুস্তক
৩। সম্পূরক পঠন-সামগ্রী
৪।  চার্ট ও কার্ডের উন্নয়নসহ খেলনা সামগ্রী
৫। অডিও-ভিজ্যুয়াল ও বিভন্ন উপকরণ
পারিবারিক ও সামাজিক পরিসর ও প্রেক্ষাপটও শিক্ষার্থীর শিখন অভিজ্ঞতা অর্জনের অন্যতম উপদান হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রাথমিক(৪র্থ থেকে ৫ম) স্তরের শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :

** মূল শিখন-শেখানো সামগ্রী হলো পাঠ্যপুস্তক, সম্পূরক পঠনসামগ্রী ও শিক্ষক সহায়িকা। 
শিক্ষার্থীর আশেপাশের পরিবেশই হবে তার শিখন অভিজ্ঞতা অর্জনের মূল উপাদান। এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী থাকবে
১। সহায়ক বই
২। সম্পূরক পঠন-সামগ্রী
৩। চার্ট ও কার্ডের উন্নয়নসহ স্থানীয় উপকরণ
৪।  অডিও-ভিজ্যুয়াল 
৫। পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ শিখন উপকরণ/সামগ্রী/উপাদান হিসেবে প্রচলন করা হবে।

মাধ্যমিক স্তরের শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :

** মূল শিখন-শেখানো সামগ্রী হলো পাঠ্যপুস্তক, সম্পূরক পঠনসামগ্রী ও শিক্ষক সহায়িকা এবং তা নিজের স্থানীয় পরিবেশের উপাদানসমূহই প্রধান শিখন সামগ্রী। 
এছাড়াও প্রয়োজন অনুযায়ী থাকবে
১।  সহায়ক বই
২।  সম্পূরক পঠন-সামগ্রী
৩।  চার্ট ও কার্ড
৪।  অডিও-ভিজ্যুয়াল সামগ্রীর উন্নয়ন ও প্রচলন করা হবে।

** যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন কেনো করা হবে?

      বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্বে নিজের অবস্থান, ইতিহাস ও সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ও কাঠামো পর্যালোচনা করে পরিবর্তনশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করে একটি উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ ও বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বনাগরিক হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারার লক্ষ্যে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন করা হবে।

** বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানঃ প্রতিটি ব্যক্তি জন্মগতভাবে অনুসন্ধানী মন নিয়ে জন্ম নেয়। সমাজ এবং প্রকৃতির বিভিন্ন বস্তু এবং ঘটনা তাঁর কৌতুহলী মনকে আরো বেশি নাড়া দেয়। সে জানতে চায় এর কারণ কি? এর পেছনের ঘটনা কী? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যে পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয় তা হলো বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান হলো কিছু কৌশলের সমন্বয়ে একটি সুসংহত পদ্ধতি, যার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়। এ পদ্ধতি আয়ত্ত্ব করতে হলে শিক্ষার্থীকে একটি যৌক্তিক, নিয়মতান্ত্রিক ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় যা তাঁকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলে। সঠিকভাবে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য কিছু বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আয়ত্ত্ব করা প্রয়োজন।

বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন হয় কৌতুহলী মনের যা প্রতিটি শিশুর মধ্যে বিদ্যমান। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পদ্ধতি আয়ত্ত্ব করার জন্য শিক্ষার্থীর মধ্যে কিছু প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা থাকা অত্যাবশ্যক, যা তাঁর অনুসন্ধান প্রক্রিয়াকে আরও বেশি শাণিত করে। আর এ দক্ষতাগুলোকেই বৈজ্ঞানিক দক্ষতা হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
 
ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের ৯টি ধাপ রয়েছে। সেগুলো হলোঃ
১। অনুসন্ধানের জন্য বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা
২। অনুসন্ধানের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন  উত্থাপন করা
৩। প্রশ্ন থেকে মূল ধারণা খুঁজে বের করা
৪। তথ্যের উৎস নির্বাচন করা
৫। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি নির্ধারণ করা
৬। তথ্য সংগ্রহ করা 
৭। তথ্য বিশ্লেষণ করা
৮। ফলাফল বা সিদ্ধান্ত এবং
৯। ফলাফলটি অন্যদের কাছে উপস্থাপন করা।

* * মূল্যায়ন:

মূল্যায়ন প্রধানত তিন প্রকারঃ

    ১। শিখনকালীন মূল্যায়ন
    ২। সামষ্টিক মূল্যায়নঃ
          ক) ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন
          খ) বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়ন
    ৩। আচরণিক মূল্যায়ন

মূল্যায়নের প্রকৃতিঃ 
মূল্যায়ন শিক্ষাক্রমের একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। এই শিক্ষাক্রম রূপরেখায় মূল্যায়নকে কেবল শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবধ না রেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন, শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন সেই সঙ্গে শিখনের মূল্যায়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে মুখস্থবিদ্যাভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে সরে এসে বহুমাত্রিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন মাত্রার জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও চেতনা বিকাশের ধারাকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

সকল ধরনের শিখন মূল্যায়নের ভিত্তি হবে যোগ্যতা।

শিখন মূল্যায়ন শিখন অগ্রগতি পরিমাপের জন্য কী ধরনের মূল্যায়ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, এবং মূল্যায়ন থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত কীভাবে নানা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্য অর্জনের সাফল্যের মাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। শিখনের এই অত্যাধুনিক যুগের সামাজিক গঠনবাদী ধারণা অনুযায়ী মূল্যায়ন কৌশল গতানুগতিক নয়।

এছাড়া যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, ও গুণাবলির মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতার পরিমাপ করা। কাজেই জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও গুণাবলিকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন না করে এই উপাদানগুলোর মিথস্ক্রিয়ায় অর্জিত সক্ষমতার মূল্যায়ন করা জরুরি।

এই মতবাদ (The theory of planned behavior-Icek Ajzen, 1991) অনুযায়ী শিক্ষাক্রম রূপরেখায় মূল্যায়নের যে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো হল :

* শিখনকালীন মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব দিয়ে বহুমাত্রিক উপায়ে মূল্যায়ন

* শিখনের জন্য মূল্যায়ন এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে শিখন

* পর্যবেক্ষণ

* প্রতিফলনভিত্তিক ও প্রক্রিয়া নির্ভর মূল্যায়ন

* ধারাবাহিক মূল্যায়ন

* সতীর্থ মূল্যায়ন

* অংশীজন মূল্যায়ন

* মূল্যায়নে টেকনোলজির (অ্যাপস) ব্যবহার

* মূল্যায়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা এবং

* ইতিবাচক ফলাবর্তন প্রদান ।

পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নের যেসকল বিষয় অনুসরণ করা হবে সেগুলো হলো :

* শিখনের জন্য শিখনকালীন মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ;

* পরীক্ষাভিত্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন হ্রাস;

* বিকল্প মূল্যায়ন (স্ব-মূল্যায়ন, সহপাঠি বা দল কর্তৃক মূল্যায়ন ইত্যাদি) ব্যবস্থা চালু যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ;

* মূল্যায়নের মূলনীতি অনুসরণ;

* মূল্যায়নের ধারাবাহিক রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা

                                  


শিক্ষার্থী মূল্যায়নে শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সংমিশ্রণ করা হয়েছে। প্রারম্ভিক শ্রেণিগুলোতে শিখনকালীন মূল্যায়নের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে উঁচু শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন কমে এসে এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।


পাবলিক পরীক্ষা:

শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। মূল্যায়ন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উপযুক্ত পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্বে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে পরীক্ষা পদ্ধতির ওয়াশব্যাক ইফেক্ট (Washback Effect) এর কারণে শিক্ষাক্রমের অর্জন, শিখন- শেখানো পদ্ধতি, শিখন সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শেখার চেয়ে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়াই মূল উদ্দেশ্য হয়ে যেতে পারে। শিক্ষাক্রমে যোগ্যতাকে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং গুণাবলি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি বিশেষত পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীর মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ (Cognitive development) মূল্যায়ন করে। তাই প্রচলিত পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল রেখে শিক্ষাক্রমের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং গুণাবলি ও মূল্যবোধ অর্জন সম্ভবপর হবে না। তাই পাবলিক পরীক্ষায় সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি শিখনকালীন মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী,

দশম শ্রেণির শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

একাদশ শ্রেণি শেষে এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।

দশম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা

দশম শ্রেণির ১০ টি বিষয়ের মধ্যে ৫টি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান) সামষ্টিক মূল্যায়ন ও শিখনকালীন মূল্যায়ন উভয়ের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীকে ম্যূলায়ন করা হবে। অবশিষ্ট ৫টি থিমভিত্তিক বিষয় (জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি) বিদ্যালয়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

                    বিষয়সমূহ                                                                       শিখনকালীনমূল্যায়ন| সামষ্টিক মূল্যায়ন


 বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান                                              ৫০%            ৫০%


 জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি| ১০০%


একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা

** ৩টি আবশ্যিক বিষয়ে ৩০% শিখনকালীন মূল্যায়ন ও ৭০% সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে;

** ৩টি নৈর্বাচনিক/ বিশেষায়িত বিষয়ে বিষয়-কাঠামো ও ধারণায়ন অনুযায়ী সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি ** এসাইনমেন্ট ও প্রজেক্টভিত্তিক মূল্যায়ন, ব্যবহারিক এবং অন্যান্য উপায়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে;

** প্রায়োগিক ১টি বিষয় বা ঐচ্ছিক বিষয়ে হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে।


শিখন মূল্যায়নের মূলনীতি

যেকোনো ধরনের মূল্যায়নের ভিত্তি হলো যোগ্যতা। জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা না করে তাদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বিবেচনা করে মূল্যায়ন পরিকল্পনা করতে হবে।

মূল্যায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশলের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নকে নিশ্চিত করতে হবে । মূল্যায়নের উদ্দেশ্য বিবেচনা করে মূল্যায়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। কী মূল্যায়ন করতে হবে তার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন পদ্ধতি ঠিক করতে হবে। মূল্যায়ন শুধুমাত্র পেপার-পেন্সিল পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে পর্যবেক্ষণ, পোর্টফোলিও, প্রতিফলনভিত্তিক ও প্রক্রিয়া নির্ভর মূল্যায়ন, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, সতীর্থ মূল্যায়ন, অংশীজন মূল্যায়ন ও মূল্যায়নে টেকনোলজির (অ্যাপস) ব্যবহার করা যেতে পারে ।

শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি তার পরিপূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ ও দুর্বলতাসমূহ দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করতে হবে। শিখনকালীন মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করতে হবে। শিখনকালীন মূল্যায়ন শিখন-শেখানো কার্যাবলীর অংশ হিসেবে অনুশীলন করতে হবে।

মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু রেকর্ড সংরক্ষণের চাইতে মূল্যায়নের মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিতকরণে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে ।

মূল্যায়ন কৌশল এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে এর ফলাফল ব্যক্তি-নিরপেক্ষ হয়। এক্ষেত্রে সতীর্থ মূল্যায়ন, স্ব-মূল্যায়ন, পোর্টফোলিও সংরক্ষণসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন উপায় গ্রহণ করা যেতে পারে।


সনদ বা রিপোর্টিং

প্রচলিত নম্বরভিত্তিক সনদ বা রিপোর্ট কার্ডের পরিবর্তে পারদর্শীতার বর্ণনামূলক সনদ বা রিপোর্ট কার্ডের প্রচলন করা হবে। রিপোর্ট কার্ডে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন যোগ্যতা অর্জনের অগ্রগতির প্রতিফলন থাকবে। শ্রেণিভিত্তিক কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের অবস্থা রিপোর্ট কার্ডে উল্লেখ থাকবে। রিপোর্ট কার্ডের মাধ্যমেই মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার যৌথভাবে শিক্ষার্থীর শিখন অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে পারে। শ্রেণিশিক্ষক সরাসরি অভিভাবকের নিকট রিপোর্ট কার্ড প্রদর্শন করবেন এবং শিক্ষার্থীর বিভিন্ন অর্জন ও উন্নয়নের দিক নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবেন । পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একইরকম ধারা অনুসরণ করা হবে। পাবলিক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ডেও শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের অগ্রগতির প্রতিফলন শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার্থী মূল্যায়নের রিপোর্ট কার্ড এবং পাবলিক পরীক্ষার রিপোর্টকার্ড সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রণয়ন ও প্রচলন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সিস্টেমনির্ভর মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে যার মাধ্যমে মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং এর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে।


অন্তবর্তীকালীন ও পাবলিক পরীক্ষায় পারদর্শিতার সনদের প্রচলনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা, দক্ষতা, অধ্যায়, শ্রেণিকাজ বা ইভেন্ট শেষেও পারদর্শিতার সনদ প্রদানের প্রচলন করা যেতে পারে ।


শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন

যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী কর্তৃক শিখন যোগ্যতা অর্জনের একটি প্রধান উপাদান হলো শিখন পরিবেশ। শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি শুধুমাত্র শিখন-শেখানো সামগ্রী, শিক্ষক এবং শিখন-শেখানো কৌশলের উপর নির্ভর করে না। কোন পরিবেশে শিখন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিখন অগ্রগতির পাশাপাশি শিখন পরিবেশ মূল্যায়ন শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষাক্রম রূপরেখা শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের পাশাপাশি শিখন পরিবেশের মূল্যায়নকে যথাযথভাবে গুরুত্ব প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থা নিয়মিত শিখন পরিবেশ মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিখন পরিবেশ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল যথাযথ পর্যালোচনা করে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে ।


শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন

শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি দেশ শিক্ষা ব্যবস্থায় কতটুকু উন্নয়ন করেছে তা বুঝতে পারে। সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা বুঝতে পারে। এক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে নমুনাভিত্তিতে শিক্ষার্থীর যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন করা যায়। প্রচলিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে ২০০২ সাল থেকে জাতীয় কৃতী অভীক্ষা (এনএসএ) ও মাধ্যমিক স্তরে ২০১৩ সাল থেকে Learning Assessment of Secondary Institutions (লাসি) প্রচলিত যার মাধ্যমে শিক্ষাক্রমে উল্লেখিত শিখনফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর শিখন অর্জন মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে শিখন অর্জনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

শিক্ষাক্রম রূপরেখায় শিক্ষাব্যবস্থা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জাতীয়ভাবে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করেছে।


শিক্ষাক্রমে ইনক্লুশন

* শিখনে শিশুর মধ্যে সমস্যা না খুঁজে, শিক্ষা ব্যবস্থার কোন ধরনের দুর্বলতার জন্যে শিক্ষার্থী শিখতে পারছে না তা চিহ্নিত করা ।

* শিক্ষার্থীর মাঝে সমস্যা খোঁজার পরিবর্তে শিক্ষাব্যবস্থা ও কাঠামোর প্রতিবন্ধকতাকে শনাক্ত ও দূরীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ

* জেন্ডার, ধর্ম-বর্ণ, প্রতিবন্ধিতা, সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শিশুর সামর্থ্য, চাহিদা ও বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যময়তা প্রস্ফুটিত করার উদ্যোগ নেওয়া

* শিক্ষাক্রমে নমনীয়তার মাধ্যমে ভিন্নভাবে সমর্থ (Differently abled) শিশু ও তৃতীয় লিঙ্গ ও অতি মেধাবী শিশুদের শিখন-চাহিদা, সক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।

শিক্ষাক্রম রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো :

এটি নমনীয়, সংবেদনশীল ও যোগ্যতাভিত্তিক; ফলে ইনক্লুশন সহায়ক। একই সঙ্গে অতি মেধাবী শিশুদের শিখন-চাহিদা, সক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় এনে অগ্রগামী শিখনের (accelerated learning) চর্চাকেও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই শিক্ষাক্রম যেন ধারণ করতে পারে তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থী যেন তার সবলতা অনুযায়ী কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বয়সের সীমা অতিক্রম করে দ্রুত শিখন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ অন্য যেকোনো শিক্ষার্থীর বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় রেখে শিক্ষাক্রম এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বহুমাত্রিকতা/ সহজীকরণ/নমনীয়তার (curriculum differentiation) সুযোগও এক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, শিক্ষাক্রম রূপরেখায় শিখন সময়কে শুধু বিদ্যালয়ের পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং শিক্ষার্থীর পরিবার, এলাকা, খেলাধুলায় যে শিখন হয় তাকেও বিবেচনায় আনা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে শিক্ষাক্রমে বহুমাত্রিকতা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?

এই নতুন শিক্ষাক্রম দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বেশকিছু গুরুতপূর্ণ গুণগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সম্পর্কে সকল অংশীজনকে পরিপূর্ণ ও সঠিক ধারণা প্রদান করা গুরুত্বপূর্ন। সকল পর্যায়ে একই ধারণা প্রদান করা না গেলে শিক্ষাক্রমের সঠিক ও সফল বাস্তবায়ন অসম্ভব। কাজেই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষাক্রম কাঠামো, শিক্ষাক্রমের ধারণার ব্যাপক বিস্তরণের জন্য একটি যোগাযোগ ও বিস্তারণ কর্ম-কৌশল গ্রহণ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। এই কর্ম পরিকল্পনার আওতায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষক, নীতি নির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা পর্যালোচনা করে আলোচনা, সেমিনার, যোগাযোগ উপকরণ তৈরি, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা প্রভৃতি আয়োজন করা হবে ।

শিক্ষাক্রম বিস্তারণ একদিকে যেমন সরাসরি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে বিস্তরণ ঘটানো হবে, সেই সঙ্গে আইসিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন মিডিয়াতে অনলাইন ও অফলাইন বিস্তরণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করবেন শিক্ষক সমাজ। শিক্ষাক্রম বিস্তরণে অফলাইন ও অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রস্তুত করা হবে।

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের পূর্বেই সকল শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট স্টাফের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।

এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম বিস্তরণের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল তৈরি করবে। পরবর্তী কালে ২০২৩ সাল থেকে দেশব্যাপী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পূর্বেই স্ব স্ব অধিদপ্তর এ সকল স্তরের শিক্ষকদের শিক্ষাক্রম বিস্তরণ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করবেন।

এছাড়াও এনসিটিবি লার্নিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ও ইস্যুভিত্তিক অনলাইন কোর্স চালু করবেন শিক্ষাক্রম বিস্তরণকে সফল করার জন্য।

শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও প্রচলনের পর অংশীজনদের প্রত্যাশা শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়ন। শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন। নতুন শিক্ষাক্রম ২০২২ সালে পাইলটিং করার পর ২০২৩ সাল থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে । 

শিক্ষাক্রম রূপরেখার পরিমার্জন ও পরিবর্তনসমূহ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথভাবে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে তার যথাযথ গ্রন্থণ, অনুধাবন, অনুশীলন, প্রতিফলন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তাই শিক্ষক প্রসশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জন বা সংস্কার ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। এ প্রেক্ষিতে শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ। 

যে সকল পর্যায়ে উন্নয়ন বা সংস্কার অত্যাবশ্যক সেগুলো হলো :

শিক্ষাক্রম, বিষয় ও শিখন-শেখানো পদ্ধতির চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত দক্ষ, পেশাদার, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক - শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের মূল চালিকা শক্তি হলেন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষ বা এর বাইরে পরিকল্পিতভাবে যে শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালিত হবে তার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষাক্রমের যোগ্যতাসমূহ অর্জন করবে। সুতরাং শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নতুন বিষয় ও শিখন-শেখানো পদ্ধতির চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ, পেশাদার, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক । প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম রূপরেখায় শিখন ক্ষেত্র, যোগ্যতা ও তার বাস্তবায়ন কৌশলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা, দায়িত্ব, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে তার প্রতিফলন প্রয়োজন । বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এবং নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী পেশাদার শিক্ষক নিয়োগ করে এ পরিবর্তন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

নতুন শিক্ষাক্রমের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও পরিমার্জনসহ শিক্ষায় প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ, পেশাদার এবং দায়িত্বশীল শিক্ষক প্রয়োজন। যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক হচ্ছেন মূল চালিকা শক্তি। 

সুতরাং বিদ্যমান শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়নসহ ভবিষ্যৎ শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলতে একটি শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। শিক্ষক যেন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়িত্বশীল, সৎ ও নির্মোহভাবে আত্মতৃপ্তি সহকারে তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেহেতু যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের বিকল্প নেই তাই শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুমোদনের অব্যবহিত পরেই যত দ্রুত সম্ভব এ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনাটি প্রণয়নে মূলত দুইটি দিক বিবেচনায় নিতে হবে;

১. বিদ্যমান শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা

২. নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষক মানদণ্ড নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী নিয়োগ, পদায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ

শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটির উত্তর নিশ্চিত করা জরুরি, তা হলো- 

২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের নাগরিক তৈরির জন্য যে পরিকল্পনা (শিক্ষাক্রম) তা বাস্তবায়নের জন্য প্রধান কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক সুতরাং শিক্ষক উন্নয়নে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের বিকল্প নেই। তবে সমন্বিত এ পরিকল্পনায় যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে, তা হচ্ছে :

বিদ্যমান শিক্ষকদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

 শিক্ষকদের জন্য একাডেমিক (গবেষণা, বৃত্তি ইত্যাদি), আর্থিক (বেতন কাঠামো, ইনক্রিমেন্ট ইত্যাদি), প্রশাসনিক (পদোন্নতি, পদসোপান ইত্যাদি) এবং সামাজিক প্রণোদনা (পুরস্কার, পদক ইত্যাদি)

শিক্ষক প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে জবাবদিহির ব্যবস্থা

শিক্ষাবিজ্ঞান, বিষয় ও আন্তঃবিষয়ভিত্তিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ

শিক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ক প্ৰশিক্ষণ

প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ সকল ক্ষেত্রে আধুনিক অবকাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টি

প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিমার্জন, পরিবর্তন বা সংস্কার জরুরি। নিচে তেমনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করা হলো ।

শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী প্রণীতব্য শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে-

শিক্ষাক্রমের ধারণায়ন, কৌশল, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষক প্রশিক্ষণ শিক্ষাক্রমের সমন্বয় করা প্রয়োজন ।

সমন্বিত ও ধারাবাহিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা জরুরি। তাছাড়াও শিক্ষকদের প্রাক-চাকুরী যোগ্যতা ও দক্ষতা নির্ধারণ, মানদণ্ড তৈরির মাধ্যমে সুস্পষ্ট লক্ষ্য অর্জনে প্রশিক্ষণ এবং কৌশল নির্ধারণ করে শিক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুগোপযোগী করে তোলা প্রয়োজন ।

শিক্ষা প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকদের জন্যও শিক্ষাক্রমের ধারণায়ন, কৌশল, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজন যেন তারা বিদ্যালয়কে কার্যকর সহায়তা দিতে পারে। তাছাড়া পরিকল্পিতভাবে যথাযথ একাডেমিক উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থায়ী শিক্ষা প্রশাসন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন ।

কার্যকর মনিটরিং ও মেন্টরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে একটি বিশ্বস্ত, গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন ।

ব্যক্তি নিরপেক্ষ/নৈর্ব্যক্তিক শিখনকালীন মূল্যায়ন কাঠামো ও ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। এক্ষেত্রে শিক্ষকের ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে একটি বিশ্বস্ত, গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষাক্রমের দর্শন, ধারণায়ন, কৌশল, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর সাথে উচ্চশিক্ষা ও এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সমন্বয় করা প্রয়োজন, যেমন ভর্তি প্রক্রিয়া, বিষয়, শিক্ষাক্রম, আন্তঃবিষয়ক ব্যবস্থাপনা ও সংযোগ ইত্যাদি ।

শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ছাড়াও বাস্তবায়নে এনসিটিবির ভূমিকা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন, যেন শিক্ষাক্রমের কার্যকর

বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায় । এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্ৰয়োজনীয় পরিমার্জন, পরিবর্ধন, পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা না করে যাতে প্রতিনিয়ত এ কাজ চলমান রাখা যায় ৷ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন মনিটরিং, মূল্যায়ন, গবেষণা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন একুশ শতকের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যার জন্য পেশাদার, দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন ।

বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ে বাস্তবায়নের সময়াবদ্ধ মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সঠিক ও সতর্কতার সঙ্গে কারিগরি ধাপসমূহ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে না করলে কার্যকর ফলাফল প্রাপ্তির চেয়ে বাস্তবায়ন দূর্যোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না ।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সকল অংশীজনের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণের জন্য সমন্বিত গণযোগাযোগ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ বাস্তবায়ন বাধা সহজেই দূরীভূত করে ফলে কার্যকর ফলাফল দ্রুত অর্জন করা যায়।

শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতি নির্দেশনার পরিমার্জন যেমন প্রয়োজন হতে পারে তেমনি নতুন নির্দেশনারও প্রয়োজন হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতি নির্দেশনার সুযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে এ ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপিত হলো :

শিক্ষাক্রম রূপরেখায় বর্ণিত পরিবর্তন ও পরিমার্জনসমূহ শিক্ষাব্যবস্থাসহ সকল পর্যায়ের অংশীজনের যথাযথভাবে অনুধাবন, প্রযোজ্য স্থানে প্রতিফলন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-নির্দেশনা, কৌশল, পরিকল্পনা ও অর্থায়ন

শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দক্ষতা, ক্ষমতায়ন ও অর্থায়নের উদ্যোগ

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজনদের সমন্বিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার মধ্যে সম্পৃক্তকরণ যেন পুরো ব্যবস্থার পারদর্শিতা সার্বক্ষণিক পরিবীক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

শিক্ষায় টেকনোলজির ব্যবহার এবং তার সহজ প্রাপ্তি ও ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নীতি নির্দেশনা প্রণয়ন।

অতএব এ কথা বলা যায় যে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো এই নতুন জাতীয়  শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।   


** কতগুলো নতুন শব্দ:
     ১। সংহতিঃ  এক হয়ে থাকার মানসিকতা। ভিন্নতা, বৈচিত্র্য ও শ্রেণিভেদ সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও অগ্রাধিকারকে পেছনে রেখে কতগুলো সামষ্টিক ইচ্ছা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপ্রেক্ষিতে সকলে মিলে বড় কোনো লক্ষ্য অর্জনে কাজ করা।

     ২। আন্তঃসম্পর্কঃ যে সম্পর্কের মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেকার সস্পর্ক স্থাপন করে মূল্যায়ন করা হয় বা যোগ্যতার পরিমাপ করা হয় সেই সম্পর্ককে আন্তঃসম্পর্ক বলা হয়।

     ৩। আন্তঃবিষয়ক জ্ঞানঃ দুই বা ততোধিক শাখার উপাদান গুলির সাথে পরিচিত।  একটি বিষয়ের ধারণা ও বিষয়বস্তুর সঙ্গে অন্য বিষয়ের ধারণা ও বিষয়বস্তুর সংযোগ করতে পারাটাই হলো আন্তঃবিষয়ক জ্ঞান।

     ৪। গঠনবাদ ধারণাঃ জানা থেকে অজানায় যাওয়ার প্রক্রিয়াকে গঠনবাদ ধারণা বলে। 
শিক্ষার্থীরা কোনো একটি জানা বিষয় সম্পর্ক থেকে ঐ রকম আর একটি বিষয় সম্পর্কে অনুভব করার মাধ্যমে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা প্রতিফলন করতে পারে তা হলো গঠনবাদ ধারণা।
যেমনঃ 'রামবুটান' কি তা আমরা চিনি না কিন্তু 'লিচু' কি তা জানি। লিচুর স্বাদ কেমন, দেখতে কেমন, রং কি এগুলো আমরা আগে থেকেই জানি; কিন্তু যখন রামবুটান দেখলাম তখন বুঝতে পারলাম এর স্বাদ, এর রং এর আকারটাও লিচুর মতো। এটাই হলো রামবুটান। আর এভাবে জানা থেকে অজানাকে জানার প্রক্রিয়াকে গঠনবাদ বলে।

 ৫। বহুমাত্রিকঃ জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও চেতনা বিকাশের ধারনাকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। মূল্যায়নের ভিত্তি হবে যোগ্যতা। যোগ্যতা  নিশ্চিতকরণ, শিখনকালীন মূল্যায়ন, স্বমূল্যায়ন, সতীর্থ মূল্যায়ন, মূল্যায়নে অভিভাবক, মখস্থ নির্ভর সামষ্টিক মূল্যায়ন হ্রাস,  শিখন অগ্রগতি মূল্যায়নে ধারাবাহিক রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা।

৬। শুদ্ধাচারঃ  শুদ্ধাচার মানে নিজের কাছে দায়বদ্ধ থেকে যেকোনো পরিস্থিতিতে নৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোন পরিবীক্ষণ  ছাড়াই নিজ দায়বদ্ধতা থেকে নৈতিকভাবে সঠিকসিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেয়াই শুদ্ধাচার।

৭। পোর্টফলিওঃ শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ফাইল যেখানে সংরক্ষণ করা হবে তাই পোর্টফোলিও।

৮। স্ব-মূল্যায়নঃ শিক্ষার্থী নিজে নিজে যে মূল্যায়ন করে থাকে তাই স্ব-মূল্যায়ন। 

৯। প্রতিবেশঃ জীবের সংগে মানুষের যে সম্পর্ক তাই প্রতিবেশ।

১০। অংশীজনঃ এমন কোনো ব্যক্তি , দল বা সংগঠনকে বোঝায় যারা একটি প্রকল্পের কোনও সিদ্ধান্ত, কর্মকান্ড বা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে বা সেট দ্বরা প্রভাবত হতে পারে বলে নিজেকে মনে করতে পারে।

১১। নান্দনিকতাঃ সৃজনশীল কাজের সৌন্দর্য উপলব্ধি করে তার চর্চা করার মননশীল মনোভাব পোষণ করা। 

১২। ক্রস কাটিংঃ শিক্ষার্থী যখন কোনো একটা যোগ্যতার ভিতর দিয়ে অন্য একটি যোগ্যতা অর্জন করে তখন তাকে ক্রস কাটিং বলে। যেমনঃ কোনো শিক্ষার্থীর সপ্তম শ্রেণির একটি যোগ্যতার মূল্যায়নের মাধ্যমে অন্য একটি যোগ্যতার মূল্যায়ন করাকে ক্রস কাটিং বলে।



     ** এই নতুন শিক্ষাক্রমের শ্লোগানঃ

  " শিখন হবে অভিজ্ঞতায়
      মূল্যায়ন হবে যোগ্যতায়।"




তথ্য সংগৃহীতঃ 

১। জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১
২। জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২

তথ্যঃ অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত।

সার্বিক সহযোগিতায়ঃ
সম্মানিত জেলা পর্যায়ের মাস্টার ট্রেইনার শিক্ষকবৃন্দঃ

১। শংকর কুমার বিশ্বাস
সহকারী অধ্যাপক
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, খুলনা। 

২। মো: আসলাম হোসেন 
সিনিয়র শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান)
নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়,নড়াইল।

৩। এস এম সাইফুজ্জামান 
সিনিয়র শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান)
গভ. ল্যাবরেটরী হাইস্কুল, খুলনা।
 
৪। মো: রিয়াজুল হক 
সিনিয়র শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান)
সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খুলনা।

৫। মো: আব্দুর রহমান
সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান)
শহীদ আলী আহমদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তালা, সাতক্ষীরা।







 


ভিটামিন এ এর অভাবঃ রোগ ও প্রভাবঃ

  ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাবার ভিটামিন এ এর অভাবঃ রোগ ও প্রভাবঃ ভিটামিন এ মানব দেহের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। এটি দৃষ্টিশক্তি,...