facebook

 



আজ ২০ মে। "চুকনগর গণহত্যা দিবস"।

চুকনগর খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্তর্গত। ডুমুরিয়া আটলিয়া ইউনিয়নে চুকনগর বাজার অবস্থিত। চুকনগর খুলনা শহর থেকে প্রায় ৩২ কি,মি পশ্চিমে ভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত এবং ভারতীয় সিমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চল।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধই নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যেসব গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি চুকনগর গনহত্যা। 

চুকনগর গণহত্যা একটি সামরিক গণহত্যা। যা ১৯৭১ সালের ২০ মে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার ডুমুরিয়ার ছোট্ট শহর চুকনগরে পাকিস্তানি বর্বর সেনারা নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। অতর্কিত এ হামলা চালিয়ে মুক্তিকামী ১০-১২ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা যে নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারও এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আজকের চুকনগর।

ঐদিন যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ পুরুষ হলেও বহু নারী ও শিশকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।

চুকনগর ভারতের সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হবার পর বিভিন্ন স্হান থেকে লোকজন সীমানত অতিক্রমের জন্য চুকনগরে এসে জড়ো হয়।

পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বাঁচার তাগিদে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 

মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মোংলা, দাকোপ, বটিয়াগাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

বাংলাদেশের খুলনা ও বাগেরহাট থেকে ভদ্রা নদী পাড়ি দিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চুকনগরে এসে জড়ো হয়। ভারতে যাবার জন্য তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে। 

১৯ মে রাতে সবাই চুকনগরে এসে পৌঁছান। পরদিন সকালে সাতক্ষীরা এবং কলারোয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার জন্য চুকনগরে সমাবেত হন।

কিন্তু ২০ মে বেলা ১১ টার দিকে মিলিটারির দুটি দল একটি ট্রাক ও একটি জিপ গাড়িতে এসে চুকনগর বাজারের উত্তর প্রান্তে "ঝাউতলা" তৎকালীন পাতখোলা নামক একটি স্থানে এসে থামে। তাদের সঙ্গে ছিলো হালকা মেশিনগান ও সেমি অটেমেটিক রাইফেল। পাতখোলা বিল থেকে তারা গুলি চালনা শুরু করে এবং পরবর্তীতে চুকনগর বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে।

হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচার আশায় অনেকে নদীতে লাফিয়ে পড়ে ডুবে মারা যায়। লাশের গন্ধে ভারি হয়ে যায় চুকনগর ও এর আশেপাশের বাতাস।

মাঠে, ক্ষেতে, খালে-বিলে পড়ে থাকে লাশ আর লাশ।

মৃতদেহগুলো পাক বাহিনী নদীতে নিক্ষেপ করে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন অবশিষ্ট মরদেহগুলোর অধিকাংশ নদীর পানিতে ফেলে দিতে বাধ্য হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার বা তারও বেশি।

হত্যাকাণ্ডে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে চুকনগরে একটি স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হয়েছে যা "চুকনগর শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ" নামে পরিচিত।

তথ্য: সংগৃহীত

No comments:

Post a Comment

ভিটামিন এ এর অভাবঃ রোগ ও প্রভাবঃ

  ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাবার ভিটামিন এ এর অভাবঃ রোগ ও প্রভাবঃ ভিটামিন এ মানব দেহের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। এটি দৃষ্টিশক্তি,...