জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১
নতুন কারিকুলাম বিস্তরণ বিষয়ক সাত দিনের উপজেলা পর্যায়ে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ থেকে প্রাপ্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলোঃ
জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি প্রযুক্তির উৎকর্ষের কারনে পরিবর্তনশীল আমাদের এই বিশ্বে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে জীবন ও জীবিকা।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ আমাদের কর্মসংস্থান এবং জীবনযাপন প্রনালীতে পরিবর্তন নিয়ে আসছে।
পৃথিবী জুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটলেও এখনও রয়ে গেছে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অশিক্ষার মতো মৌলিক সমস্যাবলী।
যে কারনে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, অভিবাসন এবং জাতিগত সহিংসতার মতো সমস্যা আজ অনেক বেশি প্রকট।
আর এসব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তার টেকসই ও কার্যকর সমাধান এবং আমাদের জনমিতিক সুফলকে সম্পদে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য প্র্যোজন জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দূরদর্শী, সংবেদনশীল, অভিযোজনে সক্ষম, মানবিক এবং যোগ্য দেশপ্রমিক বিশ্ব-নাগরিক।
বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদাররন করছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পনের লক্ষ্যমাত্রা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
আর এরকম একটি প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শিক্ষার শুধুমাত্র পরিবর্তন নয় প্রয়োজন শিক্ষার রুপান্তর।
এতদুদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উওর বিভিন্ন গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলন পরিচালনা করে। আর এসব চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তার টেকসই ও কার্যকর সমাধান এবং আমাদের জনমিতিক সুফলকে সম্পদে রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এজন্য প্র্যোজন জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দূরদর্শী, সংবেদনশীল, অভিযোজনে সক্ষম, মানবিক এবং যোগ্য দেশপ্রমিক বিশ্ব-নাগরিক।
বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পন করছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পদার্পনের লক্ষ্যমাত্রা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
আর এরকম একটি প্রেক্ষাপটে প্রচলিত শিক্ষার শুধুমাত্র পরিবর্তন নয় প্রয়োজন শিক্ষার রুপান্তর।
এতদুদ্দেশ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উওর বিভিন্ন গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলন পরিচালনা করে। গবেষণা ও কারিগরি অনুশীলনে প্রাত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দেশের বরেন্য শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ, স্ত্রভিত্তিক শিক্ষকদের সমন্ব্যে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য একটি জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ প্রণয়ন করা হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি সমূহের যৌথ সভায় জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ অনুমোদিত হয়।
জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়নের ভিত্তিঃ
নতুন শিক্ষাক্রম উন্নয়নের ক্ষেত্রে পাচঁটি ভিত্তিকে বিবেচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলোঃ
১। দার্শনিক ভিত্তি
২। মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি
৩। ঐতিহাসিক ভিত্তি
৪। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার এবং
৫। প্রমাণনির্ভর ভিত্তি।
শিক্ষাক্রমের অ্যাপ্রোচঃ
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধারনাকে নিন্মোক্তভাবে দেখা হয়েছেঃ
নতুন শিক্ষাক্রমে বিবেচ্য বিষয়সমূহঃ
জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা - ২০২১ উন্নয়ন প্রক্রিয়াঃ
থিমেটিক কর্মশালা ও সভার মাধ্যমে জাতীয় সমন্বিত স্কিল ফ্রেমওয়ার্ক উন্নয়ন (২০১৮-২০১৯)
প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাক্রম রূপরেখার ধারণা উন্নয়ন (২০১৯)
শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটি (CDRCC) গঠন (২০২০)
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিতে অনুপ্রাণিত উদ্যোগী ও উৎপাদনক্ষম জনগোষ্ঠীতে রূপান্তর করা প্রয়োজন। একইসাথে আত্মপরিচয় বহাল রেখে অভিযোজনে সক্ষম বিশ্বনাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করার জন্যও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষাক্রম রূপরেখায় যোগ্যতার বিভিন্ন উপাদানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
স্তরভিত্তিক নির্বাচিত বিষয়সমূহ:
বিষয় : ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান (History and Social Sciences)
বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতার বিবরণী
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্বে নিজের অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়, প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ও কাঠামো পর্যালোচনা করে পরিবর্তনশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুশীলন করে একটি উন্নত, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ ও বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্বনাগরিক হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারা ।
বিষয়ের ধারণায়ন
ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একবিংশ শতাব্দীর একজন বিশ্বনাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক যোগ্যতা সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রকৃতিতে ও সমাজে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা পরিবর্তনের কার্যকারণ ও প্রভাব অনুসন্ধান করতে পারবে। যৌক্তিক অনুসন্ধান পদ্ধতির প্রাথমিক ধারণা কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামোর আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ে অনুসন্ধানের যোগ্যতা অর্জন করবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জেনে সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের মূলনীতির আলোকে সামাজিক ন্যায়বিচার নীতি ধারণ করে সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখতে পারবে। ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়টি ক্রস-কাটিং ইস্যু হিসেবে রূপরেখায় নির্ধারিত দশটি মূল শিখনক্ষেত্রের সবগুলোরই নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনে ভূমিকা রাখলেও, এতে মূলত সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু এবং জীবন ও জীবিকা শিখন-ক্ষেত্রগুলো অধিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও এসকল শিখন-ক্ষেত্রের যোগ্যতাসমূহ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
সামাজিক বিজ্ঞানের বৃহত্তর পরিসরে যে সকল বিষয় যেমন- ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, আইন ইত্যাদি অধ্যয়ন করা হয়, সেগুলোর মূল বিষয়বস্তুসমূহ বিশ্লেষণ করে আত্মপরিচয়, প্রাকৃতিক ও সামাজিক কাঠামো, পরিবর্তনশীলতায় ভূমিকা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা – এই চারটি মূল ডাইমেশন নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই চারটি ডাইমেনশনকে ভিত্তি করেই বিষয়ের ধারণায়ন করা হয়েছে।
** ৪টি ডাইমেনশন:
|
৬ষ্ঠ শ্রেণি |
৭ম শ্রেণি |
৮ম শ্রেণি |
৯ম শ্রেণি |
১০ম শ্রেণি |
|
৬. প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের
বিভিন্ন পরিবর্তন পর্যালোচনা ও এদের আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করে কীভাবে
বিভিন্ন সামাজিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কাঠামোগুলো গড়ে উঠে তা অনুসন্ধান করতে
পারা এবং এর প্রেক্ষিতে কীভাবে সমাজে ব্যক্তির অবস্থান ও ভূমিকা নির্ধারিত
হয় তা অনুসন্ধান করতে পারা; প্রচলিত লিখিত উৎসের বাইরেও
বিভিন্ন উৎস অনুসন্ধান করে ইতিহাসের পটপরিবর্তন ও মহান
মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অবদান উপলব্ধি করে শ্রদ্ধা ও
মমতার সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারা। |
৭. সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি,
মূল্যবোধ এবং সমাজে মানুষের অবস্থান ও ভূমিকা যে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী
পরিবর্তিত হতে পারে পারে তা অনুসন্ধান করে এর পরিপ্রক্ষিতে মানুষের সাদৃশ্য ও
ভিন্নতার কারণ উপলব্ধি করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সহাবস্থান এবং
সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা নির্ধারণ করা।
|
৮. সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি,
মূল্যবোধ এবং সমাজে মানুষের অবস্থান ও ভূমিকা যে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী
পরিবর্তিত হতে পারে পারে তা অনুসন্ধান করে এর পরিপ্রক্ষিতে মানুষের সাদৃশ্য ও
ভিন্নতার কারণ উপলব্ধি করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সহাবস্থান এবং
সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা নির্ধারণ করা।
|
৯. প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সমাজের
মানুষের আচরণিক প্যাটার্নের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় সংঘটিত পরিবর্তনের ফলে নিকট
ভবিষ্যতে উদ্ভূত সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় জাতীয়
পরিসরে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা নির্ধারণ করে তা পালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।
|
১০. প্রাকৃতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
এবং সমাজেরমানুষের আচরণিক প্যাটার্নের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ায় সংঘটিত
পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত সম্ভাবনা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায়
বৈশ্বিক পরিসরে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা নির্ধারণ করে তা পালনে
সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।
|
|
৬.১ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার
করে সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের সাপেক্ষে সামাজিক কাঠামো ও এর
উপাদানসমূহের পরিবর্তন অন্বেষণ করতে পারা |
৭.১ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করে
যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এবং সামাজিক কাঠামো, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ যে ধ্রুব নয় বরং প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারা |
৮.১ প্রকৃতি ও সমাজের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি
করে তা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে অনুসন্ধান করতে পাৱা |
৯.১ ১০.১ প্রকৃতি ও সমাজের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে ঐতিহাসিক ও
সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে এবং সেই
অনুযায়ী কীভাবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয় তা উপলব্ধি করা এবং তাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে যাচাই করা ও সে অনুযায়ী সংবেদনশীল আচরণ করতে পারা |
|
|
৬.২ ভৌগোলিক,
সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে নিজের আত্মপরিচয় ধারণ
করা ও সেই অনুযায়ী দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারা |
৭.২ নিজের ও অন্য সম্প্রদায়ের
বৈশিষ্ট্যের সাদৃশ্য ও ভিন্নতা উপলব্ধি করে সহযোগিতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারা |
৮.২ পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আত্মপরিচয় গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি মানুষের অনন্যতা এবং তার ফলে তৈরি হওয়া
বৈচিত্র্য অন্বেষণ করতে পারা |
৯.২ ১০.২ বিভিন্ন ভৌগলিক,
সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে মানুষের আত্মপরিচয় ও আচরণিক
প্যাটার্ন কীভাবে গড়ে ওঠে তা অনুসন্ধান করতে পারা
|
|
|
৬.৩ প্রচলিত লিখিত উৎসের বাইরেও সামাজিক ও
সাংস্কৃতিক উপাদান থেকে তথ্য নিয়ে ইতিহাসের পটপরিবর্তনের স্বরূপ উপলব্ধি করতে
পার |
৭.৩ ঐতিহাসিক তথ্য যে উৎস এবং শ্রোতার উপর নির্ভর করে এবং তা যে ব্যক্তিনিরপেক্ষ
নয় তা উপলব্ধি করতে পারা |
৮.৩ একই ঐতিহাসিক তথ্য যে ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে অর্জিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি
করে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান তৈরি করে তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারা |
৯.৩ একাধিক প্রেক্ষাপট থেকে আসা ভিন্ন
ভিন্ন ঐতিহাসিক বয়ান দলিল ও প্রমাণাদির উপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করে নিজস্ব
যৌক্তিক ভাষ্যে উপনীত হওয়া
|
১০.৩ বর্তমানের কার্যকলাপের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের ইতিহাস সৃষ্টি
হয় তা উপলব্ধি করে দায়িত্বপূর্ণ আচরণ
করতে পারা |
|
৬.৪ লিখিত উৎসের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক
উপাদান থেকে ঐতিহাসিক তথ্য অনুসন্ধান করে মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অবদান
উপলব্ধি করতে পারা |
৭.৪ মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক
প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারা |
৮.৪ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর অন্যান্য জাতি ও অঞ্চলের স্বাধীনতা
সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে একাত্মতা বোধ করতে পারা |
৯.৪, ১০.৪ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের
চেতনাকে ধারণ করে ব্যক্তিস্বার্থের উধের্ম্ম জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারা |
|
|
৬.৫ সামাজিক কাঠামো কীভাবে বিভিন্ন সময় ও ভৌগলিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বিভিন্নভাবে
গড়ে ওঠে এবং কাজ করে তা অন্বেষণ করতে পারা |
৭.৫, ৮.৫ প্রচলিত রীতিনীতি, মূল্যবোধ
ইত্যাদি কীভাবে সামাজিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলে এবং একই সঙ্গে এই কাঠামো দ্বারা কীভাবে সেগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় তা অন্বেষণ করতে পারা |
৯.৫, ১০.৫ নিজস্ব গণ্ডি থেকে শুরু করে বৃহৎ
বৈশ্বিক পরিসরে সামাজিক কাঠামোকে ব্যক্তিনিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করতে
পারা |
||
|
৬.৬ সমাজে ব্যক্তির অবস্থান ও তার ভূমিকা বিদ্যমান সামাজিক এবং রাজনৈতিক কাঠামো
দ্বারা কীভাবে নির্ধারিত হয় তা অনুসন্ধান করতে পারা |
৭.৬ , ৮.৬ সময়ের সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের
পরিবর্তন ব্যক্তির অবস্থান ও ভূমিকার উপর কী রকম প্রভাব ফেলে তা অনুসন্ধান করতে
পারা
|
৯.৬, ১০.৬ স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে
বিদ্যমান সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর যৌক্তিক বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগত অবস্থান ও
ভূমিকা নির্ধারণ করতে পারা |
||
|
৬.৭ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন
ধরনের পরিবর্তন পর্যালোচনা করে এদের আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করা এবং দায়িত্বশীল
আচরণ করতে পারা |
৭.৭ স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আন্তঃসম্পর্ক
উদঘাটন করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নিজস্ব
গণ্ডিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারা |
৮.৭ স্থানীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের
আন্তঃসম্পর্ক উদঘাটন করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে কমিউনিটিকে
উদ্বুদ্ধ করতে পাৱা |
৯.৭, ১০.৭ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্যাটার্ন
উদঘাটন করে এর ফলে সৃষ্ট সম্ভাবনা ও ঝুঁকিসমূহ বিবেচনা করে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক
ভূমিকা পালনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পারা |
|
|
৬.৮ সময় ও অঞ্চলভেদে সম্পদ ব্যবস্থাপনার কাঠামো কীভাবে গড়ে ওঠে তা অন্বেষণ করতে পারা |
৭.৮ , ৮.৮ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সম্পদের উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ ও সংরক্ষণের
চর্চা সামাজিক সমতার নীতির ভিত্তিতে পর্যালোচনা
করতে পারা |
৯.৮, ১০.৮ সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সম্পদের উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ এবং সংরক্ষণের
নীতি বিশ্লেষণ করে সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক ভূমিকা নির্ধারণ
করতে পারা |
||
শিখন চক্র মূলত চারটি বিষয় নিয়ে গঠিত হয়েছে।
** শিখন-শেখানো কৌশলঃ
** শিখন কৌশলঃ
** শিখন প্রক্রিয়াঃ
** শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণঃ
প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :
প্রাথমিক(১ম থেকে ৩য়) পর্যায়ে শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :
প্রাথমিক(৪র্থ থেকে ৫ম) স্তরের শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :
মাধ্যমিক স্তরের শিখন-শেখানো সামগ্রী বা উপকরণ :
** যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন কেনো করা হবে?
* * মূল্যায়ন:
মূল্যায়ন প্রধানত তিন প্রকারঃ
শিখন মূল্যায়ন শিখন অগ্রগতি পরিমাপের জন্য কী ধরনের মূল্যায়ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, এবং মূল্যায়ন থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত কীভাবে নানা পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্য অর্জনের সাফল্যের মাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। শিখনের এই অত্যাধুনিক যুগের সামাজিক গঠনবাদী ধারণা অনুযায়ী মূল্যায়ন কৌশল গতানুগতিক নয়।
এছাড়া যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ, ও গুণাবলির মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে যোগ্যতার পরিমাপ করা। কাজেই জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও গুণাবলিকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন না করে এই উপাদানগুলোর মিথস্ক্রিয়ায় অর্জিত সক্ষমতার মূল্যায়ন করা জরুরি।
এই মতবাদ (The theory of planned behavior-Icek Ajzen, 1991) অনুযায়ী শিক্ষাক্রম রূপরেখায় মূল্যায়নের যে কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো হল :
* শিখনকালীন মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব দিয়ে বহুমাত্রিক উপায়ে মূল্যায়ন
* শিখনের জন্য মূল্যায়ন এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে শিখন
* পর্যবেক্ষণ
* প্রতিফলনভিত্তিক ও প্রক্রিয়া নির্ভর মূল্যায়ন
* ধারাবাহিক মূল্যায়ন
* সতীর্থ মূল্যায়ন
* অংশীজন মূল্যায়ন
* মূল্যায়নে টেকনোলজির (অ্যাপস) ব্যবহার
* মূল্যায়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা এবং
* ইতিবাচক ফলাবর্তন প্রদান ।
পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে মূল্যায়নের যেসকল বিষয় অনুসরণ করা হবে সেগুলো হলো :
* শিখনের জন্য শিখনকালীন মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ;
* পরীক্ষাভিত্তিক সামষ্টিক মূল্যায়ন হ্রাস;
* বিকল্প মূল্যায়ন (স্ব-মূল্যায়ন, সহপাঠি বা দল কর্তৃক মূল্যায়ন ইত্যাদি) ব্যবস্থা চালু যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ;
* মূল্যায়নের মূলনীতি অনুসরণ;
* মূল্যায়নের ধারাবাহিক রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা
শিক্ষার্থী মূল্যায়নে শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের সংমিশ্রণ করা হয়েছে। প্রারম্ভিক শ্রেণিগুলোতে শিখনকালীন মূল্যায়নের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে উঁচু শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন কমে এসে এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
পাবলিক পরীক্ষা:
শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাক্রমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। মূল্যায়ন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উপযুক্ত পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্বে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে পরীক্ষা পদ্ধতির ওয়াশব্যাক ইফেক্ট (Washback Effect) এর কারণে শিক্ষাক্রমের অর্জন, শিখন- শেখানো পদ্ধতি, শিখন সংস্কৃতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। শেখার চেয়ে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়াই মূল উদ্দেশ্য হয়ে যেতে পারে। শিক্ষাক্রমে যোগ্যতাকে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং গুণাবলি ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি বিশেষত পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীর মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ (Cognitive development) মূল্যায়ন করে। তাই প্রচলিত পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি বহাল রেখে শিক্ষাক্রমের মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি এবং গুণাবলি ও মূল্যবোধ অর্জন সম্ভবপর হবে না। তাই পাবলিক পরীক্ষায় সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি শিখনকালীন মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী,
দশম শ্রেণির শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
একাদশ শ্রেণি শেষে এবং দ্বাদশ শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে।
দশম শ্রেণি শেষে পাবলিক পরীক্ষা
দশম শ্রেণির ১০ টি বিষয়ের মধ্যে ৫টি বিষয়ে (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান) সামষ্টিক মূল্যায়ন ও শিখনকালীন মূল্যায়ন উভয়ের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীকে ম্যূলায়ন করা হবে। অবশিষ্ট ৫টি থিমভিত্তিক বিষয় (জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি) বিদ্যালয়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।
বিষয়সমূহ শিখনকালীনমূল্যায়ন| সামষ্টিক মূল্যায়ন
বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান ৫০% ৫০%
জীবন ও জীবিকা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, ভালো থাকা, ধর্ম শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি| ১০০%
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা
** ৩টি আবশ্যিক বিষয়ে ৩০% শিখনকালীন মূল্যায়ন ও ৭০% সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে;
** ৩টি নৈর্বাচনিক/ বিশেষায়িত বিষয়ে বিষয়-কাঠামো ও ধারণায়ন অনুযায়ী সামষ্টিক মূল্যায়নের পাশাপাশি ** এসাইনমেন্ট ও প্রজেক্টভিত্তিক মূল্যায়ন, ব্যবহারিক এবং অন্যান্য উপায়ে শিখনকালীন মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে;
** প্রায়োগিক ১টি বিষয় বা ঐচ্ছিক বিষয়ে হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে।
শিখন মূল্যায়নের মূলনীতি
যেকোনো ধরনের মূল্যায়নের ভিত্তি হলো যোগ্যতা। জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। তবে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা না করে তাদের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বিবেচনা করে মূল্যায়ন পরিকল্পনা করতে হবে।
মূল্যায়নের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশলের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নকে নিশ্চিত করতে হবে । মূল্যায়নের উদ্দেশ্য বিবেচনা করে মূল্যায়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। কী মূল্যায়ন করতে হবে তার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন পদ্ধতি ঠিক করতে হবে। মূল্যায়ন শুধুমাত্র পেপার-পেন্সিল পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে পর্যবেক্ষণ, পোর্টফোলিও, প্রতিফলনভিত্তিক ও প্রক্রিয়া নির্ভর মূল্যায়ন, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, সতীর্থ মূল্যায়ন, অংশীজন মূল্যায়ন ও মূল্যায়নে টেকনোলজির (অ্যাপস) ব্যবহার করা যেতে পারে ।
শ্রেণিকক্ষে ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন অর্জনকে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি তার পরিপূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ ও দুর্বলতাসমূহ দূরীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করতে হবে। শিখনকালীন মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করতে হবে। শিখনকালীন মূল্যায়ন শিখন-শেখানো কার্যাবলীর অংশ হিসেবে অনুশীলন করতে হবে।
মূল্যায়নের রেকর্ড যথাযথ উপায়ে সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু রেকর্ড সংরক্ষণের চাইতে মূল্যায়নের মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিতকরণে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে ।
মূল্যায়ন কৌশল এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে যাতে এর ফলাফল ব্যক্তি-নিরপেক্ষ হয়। এক্ষেত্রে সতীর্থ মূল্যায়ন, স্ব-মূল্যায়ন, পোর্টফোলিও সংরক্ষণসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন উপায় গ্রহণ করা যেতে পারে।
সনদ বা রিপোর্টিং
প্রচলিত নম্বরভিত্তিক সনদ বা রিপোর্ট কার্ডের পরিবর্তে পারদর্শীতার বর্ণনামূলক সনদ বা রিপোর্ট কার্ডের প্রচলন করা হবে। রিপোর্ট কার্ডে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন যোগ্যতা অর্জনের অগ্রগতির প্রতিফলন থাকবে। শ্রেণিভিত্তিক কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের অবস্থা রিপোর্ট কার্ডে উল্লেখ থাকবে। রিপোর্ট কার্ডের মাধ্যমেই মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার যৌথভাবে শিক্ষার্থীর শিখন অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে পারে। শ্রেণিশিক্ষক সরাসরি অভিভাবকের নিকট রিপোর্ট কার্ড প্রদর্শন করবেন এবং শিক্ষার্থীর বিভিন্ন অর্জন ও উন্নয়নের দিক নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবেন । পাবলিক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও একইরকম ধারা অনুসরণ করা হবে। পাবলিক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ডেও শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জনের অগ্রগতির প্রতিফলন শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার্থী মূল্যায়নের রিপোর্ট কার্ড এবং পাবলিক পরীক্ষার রিপোর্টকার্ড সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে প্রণয়ন ও প্রচলন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সিস্টেমনির্ভর মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে যার মাধ্যমে মূল্যায়ন ও রিপোর্টিং এর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যাবে।
অন্তবর্তীকালীন ও পাবলিক পরীক্ষায় পারদর্শিতার সনদের প্রচলনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতা, দক্ষতা, অধ্যায়, শ্রেণিকাজ বা ইভেন্ট শেষেও পারদর্শিতার সনদ প্রদানের প্রচলন করা যেতে পারে ।
শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন
যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী কর্তৃক শিখন যোগ্যতা অর্জনের একটি প্রধান উপাদান হলো শিখন পরিবেশ। শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি শুধুমাত্র শিখন-শেখানো সামগ্রী, শিক্ষক এবং শিখন-শেখানো কৌশলের উপর নির্ভর করে না। কোন পরিবেশে শিখন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিখন অগ্রগতির পাশাপাশি শিখন পরিবেশ মূল্যায়ন শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাক্রম রূপরেখা শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের পাশাপাশি শিখন পরিবেশের মূল্যায়নকে যথাযথভাবে গুরুত্ব প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থা নিয়মিত শিখন পরিবেশ মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিখন পরিবেশ মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল যথাযথ পর্যালোচনা করে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে ।
শিক্ষা ব্যবস্থার মূল্যায়ন
শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থা মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি দেশ শিক্ষা ব্যবস্থায় কতটুকু উন্নয়ন করেছে তা বুঝতে পারে। সেই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে শিক্ষা ব্যবস্থার কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে তা বুঝতে পারে। এক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে নমুনাভিত্তিতে শিক্ষার্থীর যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন করা যায়। প্রচলিত ব্যবস্থায় বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে ২০০২ সাল থেকে জাতীয় কৃতী অভীক্ষা (এনএসএ) ও মাধ্যমিক স্তরে ২০১৩ সাল থেকে Learning Assessment of Secondary Institutions (লাসি) প্রচলিত যার মাধ্যমে শিক্ষাক্রমে উল্লেখিত শিখনফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর শিখন অর্জন মূল্যায়নের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে শিখন অর্জনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
শিক্ষাক্রম রূপরেখায় শিক্ষাব্যবস্থা মূল্যায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জাতীয়ভাবে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব প্রদান করেছে।
শিক্ষাক্রমে ইনক্লুশন
* শিখনে শিশুর মধ্যে সমস্যা না খুঁজে, শিক্ষা ব্যবস্থার কোন ধরনের দুর্বলতার জন্যে শিক্ষার্থী শিখতে পারছে না তা চিহ্নিত করা ।
* শিক্ষার্থীর মাঝে সমস্যা খোঁজার পরিবর্তে শিক্ষাব্যবস্থা ও কাঠামোর প্রতিবন্ধকতাকে শনাক্ত ও দূরীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ
* জেন্ডার, ধর্ম-বর্ণ, প্রতিবন্ধিতা, সামাজিক ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শিশুর সামর্থ্য, চাহিদা ও বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্যময়তা প্রস্ফুটিত করার উদ্যোগ নেওয়া
* শিক্ষাক্রমে নমনীয়তার মাধ্যমে ভিন্নভাবে সমর্থ (Differently abled) শিশু ও তৃতীয় লিঙ্গ ও অতি মেধাবী শিশুদের শিখন-চাহিদা, সক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া।
শিক্ষাক্রম রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো :
এটি নমনীয়, সংবেদনশীল ও যোগ্যতাভিত্তিক; ফলে ইনক্লুশন সহায়ক। একই সঙ্গে অতি মেধাবী শিশুদের শিখন-চাহিদা, সক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় এনে অগ্রগামী শিখনের (accelerated learning) চর্চাকেও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এই শিক্ষাক্রম যেন ধারণ করতে পারে তা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থী যেন তার সবলতা অনুযায়ী কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বয়সের সীমা অতিক্রম করে দ্রুত শিখন কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ অন্য যেকোনো শিক্ষার্থীর বিশেষ চাহিদা বিবেচনায় রেখে শিক্ষাক্রম এবং এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বহুমাত্রিকতা/ সহজীকরণ/নমনীয়তার (curriculum differentiation) সুযোগও এক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, শিক্ষাক্রম রূপরেখায় শিখন সময়কে শুধু বিদ্যালয়ের পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং শিক্ষার্থীর পরিবার, এলাকা, খেলাধুলায় যে শিখন হয় তাকেও বিবেচনায় আনা হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে শিক্ষাক্রমে বহুমাত্রিকতা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?
এই নতুন শিক্ষাক্রম দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বেশকিছু গুরুতপূর্ণ গুণগত পরিবর্তন
আনতে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সম্পর্কে সকল অংশীজনকে পরিপূর্ণ ও সঠিক ধারণা প্রদান করা
গুরুত্বপূর্ন। সকল পর্যায়ে একই ধারণা প্রদান করা না গেলে শিক্ষাক্রমের সঠিক ও সফল বাস্তবায়ন
অসম্ভব। কাজেই বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষাক্রম কাঠামো, শিক্ষাক্রমের ধারণার
ব্যাপক বিস্তরণের জন্য একটি যোগাযোগ ও বিস্তারণ কর্ম-কৌশল গ্রহণ করার জন্য প্রশিক্ষণের
প্রয়োজন। এই কর্ম পরিকল্পনার আওতায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক,
শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসক, বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষক, নীতি নির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিদের
দায়িত্ব ও ভূমিকা পর্যালোচনা করে আলোচনা, সেমিনার, যোগাযোগ উপকরণ তৈরি, প্রশিক্ষণ,
কর্মশালা প্রভৃতি আয়োজন করা হবে ।
শিক্ষাক্রম বিস্তারণ একদিকে যেমন সরাসরি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রচারের মাধ্যমে
বিস্তরণ ঘটানো হবে, সেই সঙ্গে আইসিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন মিডিয়াতে অনলাইন ও অফলাইন
বিস্তরণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করবেন শিক্ষক সমাজ। শিক্ষাক্রম
বিস্তরণে অফলাইন ও অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রস্তুত করা হবে।
প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের পূর্বেই সকল শিক্ষক ও
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট স্টাফের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
এনসিটিবি প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম বিস্তরণের
জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল তৈরি করবে। পরবর্তী কালে ২০২৩ সাল থেকে দেশব্যাপী শিক্ষাক্রম
বাস্তবায়নের পূর্বেই স্ব স্ব অধিদপ্তর এ সকল স্তরের শিক্ষকদের শিক্ষাক্রম বিস্তরণ
প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করবেন।
এছাড়াও এনসিটিবি লার্নিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষাক্রম বিষয়ক বিভিন্ন
বিষয়ভিত্তিক ও ইস্যুভিত্তিক অনলাইন কোর্স চালু করবেন শিক্ষাক্রম বিস্তরণকে সফল করার
জন্য।
শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও প্রচলনের পর অংশীজনদের প্রত্যাশা শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়ন। শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন। নতুন শিক্ষাক্রম ২০২২ সালে পাইলটিং করার পর ২০২৩ সাল থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে ।
শিক্ষাক্রম রূপরেখার পরিমার্জন ও পরিবর্তনসমূহ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথভাবে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করতে হলে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে তার যথাযথ গ্রন্থণ, অনুধাবন, অনুশীলন, প্রতিফলন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তাই শিক্ষক প্রসশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিমার্জন বা সংস্কার ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। এ প্রেক্ষিতে শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ।
যে সকল পর্যায়ে উন্নয়ন বা সংস্কার অত্যাবশ্যক সেগুলো হলো :
শিক্ষাক্রম, বিষয় ও শিখন-শেখানো পদ্ধতির চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত দক্ষ, পেশাদার, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক - শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের মূল চালিকা শক্তি হলেন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষ বা এর বাইরে পরিকল্পিতভাবে যে শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালিত হবে তার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা শিক্ষাক্রমের যোগ্যতাসমূহ অর্জন করবে। সুতরাং শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নতুন বিষয় ও শিখন-শেখানো পদ্ধতির চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ, পেশাদার, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক । প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম রূপরেখায় শিখন ক্ষেত্র, যোগ্যতা ও তার বাস্তবায়ন কৌশলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা, দায়িত্ব, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে তার প্রতিফলন প্রয়োজন । বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এবং নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী পেশাদার শিক্ষক নিয়োগ করে এ পরিবর্তন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
নতুন শিক্ষাক্রমের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও পরিমার্জনসহ শিক্ষায় প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ, পেশাদার এবং দায়িত্বশীল শিক্ষক প্রয়োজন। যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক হচ্ছেন মূল চালিকা শক্তি।
সুতরাং বিদ্যমান শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির
উন্নয়নসহ ভবিষ্যৎ শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলতে
একটি শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। শিক্ষক
যেন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়িত্বশীল, সৎ ও নির্মোহভাবে আত্মতৃপ্তি সহকারে তাঁর উপর অর্পিত
দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেহেতু যোগ্যতাসম্পন্ন
শিক্ষকের বিকল্প নেই তাই শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুমোদনের অব্যবহিত পরেই যত দ্রুত সম্ভব
এ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনাটি প্রণয়নে মূলত দুইটি দিক বিবেচনায়
নিতে হবে;
১. বিদ্যমান শিক্ষকদের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য স্বল্প, মধ্য
ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা
২. নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষক মানদণ্ড নির্ধারণ করে সে
অনুযায়ী নিয়োগ, পদায়ন ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ
শিক্ষক নিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটির উত্তর নিশ্চিত করা জরুরি, তা হলো-
২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের নাগরিক তৈরির জন্য যে পরিকল্পনা (শিক্ষাক্রম)
তা বাস্তবায়নের জন্য প্রধান কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক সুতরাং শিক্ষক উন্নয়নে সর্বোচ্চ
বিনিয়োগের বিকল্প নেই। তবে সমন্বিত এ পরিকল্পনায় যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত
করা যেতে পারে, তা হচ্ছে :
বিদ্যমান শিক্ষকদের জন্য ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
শিক্ষকদের জন্য একাডেমিক (গবেষণা,
বৃত্তি ইত্যাদি), আর্থিক (বেতন কাঠামো, ইনক্রিমেন্ট ইত্যাদি), প্রশাসনিক (পদোন্নতি,
পদসোপান ইত্যাদি) এবং সামাজিক প্রণোদনা (পুরস্কার, পদক ইত্যাদি)
শিক্ষক প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বিতভাবে জবাবদিহির ব্যবস্থা
শিক্ষাবিজ্ঞান, বিষয় ও আন্তঃবিষয়ভিত্তিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ
শিক্ষা প্রযুক্তি বিষয়ক প্ৰশিক্ষণ
প্রশিক্ষণ, গবেষণাসহ সকল ক্ষেত্রে আধুনিক অবকাঠামোগত সুযোগ সৃষ্টি
প্রস্তাবিত শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও
গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিমার্জন, পরিবর্তন বা সংস্কার জরুরি। নিচে তেমনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় উপস্থাপন করা হলো ।
শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী প্রণীতব্য শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে-
শিক্ষাক্রমের ধারণায়ন, কৌশল, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষক প্রশিক্ষণ
শিক্ষাক্রমের সমন্বয় করা প্রয়োজন ।
সমন্বিত ও ধারাবাহিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা জরুরি। তাছাড়াও শিক্ষকদের
প্রাক-চাকুরী যোগ্যতা ও দক্ষতা নির্ধারণ, মানদণ্ড তৈরির মাধ্যমে সুস্পষ্ট লক্ষ্য অর্জনে
প্রশিক্ষণ এবং কৌশল নির্ধারণ করে শিক্ষকদের ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুগোপযোগী
করে তোলা প্রয়োজন ।
শিক্ষা প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকদের জন্যও শিক্ষাক্রমের ধারণায়ন, কৌশল, পদ্ধতি
ও বিষয়বস্তুর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা প্রয়োজন যেন তারা বিদ্যালয়কে কার্যকর সহায়তা
দিতে পারে। তাছাড়া পরিকল্পিতভাবে যথাযথ একাডেমিক উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের
মাধ্যমে স্থায়ী শিক্ষা প্রশাসন তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন ।
কার্যকর মনিটরিং ও মেন্টরিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটালাইজেশনের
মাধ্যমে একটি বিশ্বস্ত, গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন ।
ব্যক্তি নিরপেক্ষ/নৈর্ব্যক্তিক শিখনকালীন মূল্যায়ন কাঠামো ও ব্যবস্থা প্রণয়ন
ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। এক্ষেত্রে শিক্ষকের ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে
ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে একটি বিশ্বস্ত, গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
শিক্ষাক্রমের দর্শন, ধারণায়ন, কৌশল, পদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর সাথে উচ্চশিক্ষা
ও এ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সমন্বয় করা প্রয়োজন, যেমন ভর্তি
প্রক্রিয়া, বিষয়, শিক্ষাক্রম, আন্তঃবিষয়ক ব্যবস্থাপনা ও সংযোগ ইত্যাদি ।
শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ছাড়াও বাস্তবায়নে এনসিটিবির ভূমিকা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন, যেন শিক্ষাক্রমের কার্যকর
বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায় । এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা থেকে প্রাপ্ত
ফলাফলের ভিত্তিতে প্ৰয়োজনীয় পরিমার্জন, পরিবর্ধন, পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা না করে
যাতে প্রতিনিয়ত এ কাজ চলমান রাখা যায় ৷ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন মনিটরিং, মূল্যায়ন,
গবেষণা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন একুশ শতকের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ
কার্যক্রম যার জন্য পেশাদার, দক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন ।
বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানসমূহ নিয়ে বাস্তবায়নের সময়াবদ্ধ
মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে
সঠিক ও সতর্কতার সঙ্গে কারিগরি ধাপসমূহ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সমন্বিত
পরিকল্পনার মাধ্যমে না করলে কার্যকর ফলাফল প্রাপ্তির চেয়ে বাস্তবায়ন দূর্যোগের সম্ভাবনা
বেশি থাকে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় না ।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সকল অংশীজনের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণের জন্য সমন্বিত গণযোগাযোগ কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ বাস্তবায়ন বাধা সহজেই দূরীভূত করে ফলে কার্যকর ফলাফল দ্রুত অর্জন করা যায়।
শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়নে অনেক ক্ষেত্রে
বিদ্যমান নীতি নির্দেশনার পরিমার্জন যেমন প্রয়োজন হতে পারে তেমনি নতুন নির্দেশনারও
প্রয়োজন হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অর্থায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে নীতি নির্দেশনার সুযোগ
রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে এ ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় উপস্থাপিত হলো :
শিক্ষাক্রম রূপরেখায় বর্ণিত পরিবর্তন ও পরিমার্জনসমূহ শিক্ষাব্যবস্থাসহ
সকল পর্যায়ের অংশীজনের যথাযথভাবে অনুধাবন, প্রযোজ্য স্থানে প্রতিফলন ও বাস্তবায়নের
জন্য প্রয়োজনীয় নীতি-নির্দেশনা, কৌশল, পরিকল্পনা ও অর্থায়ন
শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দক্ষতা, ক্ষমতায়ন ও অর্থায়নের
উদ্যোগ
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশীজনদের সমন্বিত পরিবীক্ষণ
ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার মধ্যে সম্পৃক্তকরণ যেন পুরো ব্যবস্থার পারদর্শিতা সার্বক্ষণিক
পরিবীক্ষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
শিক্ষায় টেকনোলজির ব্যবহার এবং তার সহজ প্রাপ্তি ও ব্যবহারে প্রয়োজনীয়
নীতি নির্দেশনা প্রণয়ন।
অতএব এ কথা বলা যায় যে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১ ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বিস্তরণ ২০২২ প্রশিক্ষনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো এই নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।







No comments:
Post a Comment